অবৈধ অস্ত্র পরিহার করুন,তবেই পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে;মাহবুবউল আলম হানিফ

প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ” এই স্লেগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ খাগড়াছড়ি জেলা শাখা’র উদ্যোগে জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল প্রতিনিধি ২০২২অনুষ্ঠিত হয়েছো।

রবিবার(২০মার্চ)সকাল থেকে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগ’র কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি এবং প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র হুইপ ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেন,আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন বাজি রেখে দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।আওয়ামী লীগ ১৩বছরের ক্ষমতায় বাংলাদেশকে কোন পর্যায়ে নিয়ে এসেছে,সেটির প্রমাণ দিবে এদেশের নাগরিক।বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ চূড়ান্ত পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে।বিদ্যুতিক ঘাটতি পূরণ করেই চলেছে বর্তমান সরকার।আমরা আশা করি পার্বত্য অঞ্চলের যেসকল এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, কয়েক বছরের মধ্যে বিদ্যুৎ পৌঁছিয়ে দেয়া হবে।বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় বৃহত্তর পোশাক রপ্তানির দেশ হিসেবে স্থান লাভ করেছে।
যারা জামাত-বিএনপি করে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনা।এদেশের উন্নয়নকে তারা স্বীকার করেনা। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ হয়েছে সেটি তারা চোখে পড়েনা এবং স্বীকার করেনা।

তিনি আরও বলেনএই পাহাড়ে যারা অস্ত্র ব্যবহার করে শান্তির কথা বলছেন,শান্তির পরিবেশ খুঁজছেন,তারা শান্তির পরিবেশ খুঁজে পাবেন কিভাবে?অবৈধ অস্ত্র পরিহার করুন,তবেই পাহাড়ে শান্তির সুবাতাস বইবে।আওয়ামী লীগ শান্তি চাই,উন্নয়ন চাই।আমরা একসাথে এদেশকে এদেশকে এগিয়ে বিশ্বের দরবারে মুখ উজ্জ্বল করবো।

প্রধান বক্তা হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব উন্নয়ন হয়েছে তা দৃশ্যমান। উন্নয়নের সরকার মানেই শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন,এই বাংলাদেশের জন্যই ৩০লক্ষ মানুষ মুক্তিযুদ্ধের শহীদ হয়েছেন, রক্ত দিয়েছেন।এই রক্তের সুফল সারাদেশের ন্যায় পার্বত্য জেলাগুলোও ভোগ করছে। আপনার এগিয়ে যান প্রিয় খাগড়াছড়িবাসী,আমরা আপনাদের অনুসরণ করবো।প্রিয় খাগড়াছড়িবাসী আপনারা সবসময় ভালো থাকুন।আপনারা ভালো থাকলে আমরা সবসময় ভালো থাকবো,আপনারা ভালো থাকলে সারাদেশ তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ভালো থাকবেন।

পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মত সুন্দর এবং ভালো মনের মানুষ আর কোথাও খুঁজে পাবেন না।পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের সহজ সরল মানুষের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করতে চাই।আজকে খাগড়াছড়ির সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।শান্তি সম্প্রীতির খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা,উন্নয়নের খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।আজকে আমার জীবন পূর্ণ হয়েছে।প্রকৃতির মাঝে এই সৌন্দর্য আমাকে আজীবন চির কৃতজ্ঞ করে রাখবে।

সভাপতির বক্তব্যে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি বলেন,আমাদের আস্থা এবং বিশ্বাসের ঠিকানা জয় বাংলা।জয় বাংলা হচ্ছে বিজয়ের একমাত্র ঠিকানা।বাংলাদেশের বিজয়ের ঠিকানা জয় বাংলা।বঙ্গবন্ধুর একটি আঙ্গুলের ইশারায় দেশের আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি।আমরা বিজয়ের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছি।১৮কোটির মানুষের ৩৬কোটি হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মনে ধারণ করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।শেখ হাসিনার সরকারের হাতকে ৩৬কোটি হাত দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরপ বলেন,ইতোমধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তি, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন খাতে বিশ্বব্যাপী উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এমপি,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি,বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম আমিন প্রচুর।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া,জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী,জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।