“অহিংসা পরম ধর্ম,হিংসা অধর্ম”পানছড়িতে কঠিন চীবর দানোৎসবে ;রুপনা চাকমা কণি

প্রকাশিত: ১০:১৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৪, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লতিবানের জোতির্ময় কার্বারী পাড়ার আর্য্য মিত্র বৌদ্ধ বিহারে ১৬তম কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।এ উপলক্ষে বিহার অধ্যক্ষ সুদর্শী স্থবির ভান্তে’র ব্যতিক্রমী উদ্যোগে ১৫দিন ব্যাপী ‘বই পড়ার উৎসব’র সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

বৃহস্পতিবার(৪নভেম্বর) সকাল থেকে নানান আয়োজনে আর্য্য মিত্র বৌদ্ধ বিহারে ১৬তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠিত হয়েছে।এদিন সকাল থেকে প্রাতরাশ, বুদ্ধপুজা, বুদ্ধমূর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, সুত্রপাঠ, ধর্মীয় দেশনা, কল্পতরু প্রদক্ষিণ করে দানোৎসব উদযাপিত হয়েছে।দুপুরে অনুষ্ঠানের মূলপর্ব শুরুর আগে উৎসবমুখর পরিবেশে কঠিন চীবর দান এবং কল্পতরু প্রদক্ষিণ করে আনন্দ শোভাযাত্রা করা হয়। পুণ্যার্থীদের পদচারণায় মূখর হয়ে উঠে বিহার প্রাঙ্গণ।এতে গত ২০অক্টোবর থেকে আজ সমাপনী দিনে ৪নভেম্বর পর্যন্ত ১৫দিন ব্যাপী বই পড়া উৎসবের অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।বই পড়ার উৎসবে প্রতিপাদ্যের বিষয়,’পড়িলে বই আলোকিত হই,না পড়িলে বই অন্ধকারে রই”।

এসময় অনুষ্ঠানে বিহার অধ্যক্ষ সুদর্শী স্থবির ভান্তে’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,খাগড়াছড়ি জেলার বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’ এর ট্রাস্টি ও জেলা মহিলা আওয়ামীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক রুপনা চাকমা।

অনুষ্ঠানে রুমেল মারমা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলার বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রুপনা চাকমা কণি বলেন,১৫দিনব্যাপী বই পড়ার উৎসব এই বিহার অধ্যক্ষ সুদর্শী স্থবির ভান্তে’র একটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।এটি একটি উনার প্রশংসনীয় উদ্যোগ।আমি ভান্তের এ কাজের জন্য শ্রদ্ধা জানাই। ভবিষ্যতে আরো এই রকম সমাজের কল্যাণের জন্য,ছেলেমেয়েদের মানসিক পরিবর্তনের জন্য আরো কল্যাণকর ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন,সেই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন,বর্তমান সরকার এদেশের সকল ধর্মীয় মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে।শান্তি, সম্প্রীতি ও দেশের উন্নয়নের জন্য সব ধরণের কাজ করে যাচ্ছে সরকার।গৃহহীনদের মাঝে ঘর দিচ্ছে।দেশের উন্নয়নের জন্য ও শান্তির জন্য সব চেষ্টা করে যাচ্ছে। যারা এদেশের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন চাইনা,তারাই এদেশের শান্তি,সম্প্রীতি ও উন্নয়নে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।আমাদের বৌদ্ধ ধর্মে আছে অহিংসা পরম ধর্ম,হিংসা অধর্ম।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতার ঘটনা তথা দূর্গা মূর্তি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে,মন্দির ভাঙ্গা হয়েছে,এটা আমাদের জন্য খুবই লজ্জ্বাজনক ও ন্যাক্কারজনক।এই থেকে আমরা উপলব্ধি করতে পেরেছি যে কোন একটি মহল শান্তি বিনষ্ট করতে ফায়দা লুটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।বাংলাদেশের উন্নয়নকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য কিছু কিছু ষড়যন্ত্রকারীরা এই অসুন্দর কাজটি করছে।এই সমস্ত শান্তি ও সম্প্রীতির বিনষ্টকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে একসাথে প্রতিহত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন,স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছেলেমেয়েরা যে স্মার্টফোন ব্যবহার করতেছে,সেটি উপকারের চেয়ে অপকার টাই বেশি হচ্ছে।তাই অভিভাবকেরা এই স্মার্টফোন ব্যবহারের বিষয়ে সবসময় তদারকি করা প্রয়োজন।তারা মোবাইল নিয়ে কি করছে,কি না করছে সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান এবং
বিহারের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পরবর্তীতে সার্বিক সহযোগিতা আশ্বাস প্রদানের আশ্বাস দেন।

পরে আর্য্য মিত্র বৌদ্ধ বিহারের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একই উপজেলায় বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ” প্যাগোডা ভিত্তিক প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা প্রকল্প-২য় পর্যায়(১ম
সংশোধিত)” চলমান শিক্ষাকেন্দ্র ভূক্ত মির্জা টিলা লোকবল বৌদ্ধ বিহার,সংঘমৈত্রী বৌদ্ধ
বিহার,নালকাটা আম্রকানন বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করেন।

এসময় সফরসঙ্গী হিসেবে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগে সম্পাদক অন্তরা খীসা,জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের তথ্য- প্রচার সম্পাদক মিত্রা চাকমা,সমাজসেবী ও দক্ষিণ খবং পড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিজয়া খীসা ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ফিল্ড সুপারভাইজার দারুন বিকাশ ত্রিপুরাসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।