আদমদীঘিতে ইউএনও’র দুই নিরাপত্তা গার্ড এবং এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও মারপিটের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল(আদমদীঘি প্রতিনিধি)

বগুড়ার আদমদীঘিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিকিউরিটি গার্ড দুই আনসার সদস্য ও এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, মারপিট, অশ্লীল গালমন্দ ও ভীতিকর অবস্থা তৈরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোবাইল ফোন যোগাযোগে প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিউকিউরিটি গার্ড দুই আনসার সদস্য রাকিবুল ইসলাম ও হাফিজ উদ্দিন এবং মতি নামের এক সাংবাদিক উপজেলার চাঁপাপুর বাজারে যায়। তারা চলমান লকডাউনে দোকান ও মার্কেট খোলার অপরাধে বিভিন্ন দোকানে ত্রাস সৃষ্টি করে মারপিট ও জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে একাধিক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে চাঁদা আদায় করে।

ওই বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জেমস জানান, চলমান কঠোর লকডাউনের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সিকিউরিটি গার্ড আনসার সদস্য রাকিবুল ও হাফিজ এবং মতি সাংবাদিক মিলে আজ বাজারে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তারা মোটরসাইকেলযোগে শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে চাঁপাপুর বাজারে পৌঁছে। এরপর তারা বিভিন্ন দোকানে ও মার্কেটে হানা দিয়ে জেল জরিমানার ভয় দেখিয়ে ওমর ফারুক বস্ত্রবিতান, আতিকুল গার্মেন্টস থেকে চাঁদা আদায় করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের অশ্লীল গালমন্দ করছিল। এসময় আমি নিজেও ওখানে এসে উৎসুক জনতার সাথে ঘটনা অবলোকন করছিলাম। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য রাকিবুল ছবি তোলার অভিযোগ এনে আমাকে চর থাপ্পর মেরে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। বাজার থেকে কিছু দূরে গিয়ে রাস্তার মধ্যে ওই দুই আনসার সদস্য মিলে ফের জেল জরিমানার ভয় দেখায়। এক পর্যায়ে আমার প্যান্টের পকেট হাতরিয়ে দুই হাজার দুই’শত টাকা নিয়ে নেয়। এর কিছু পর সাংবাদিক মতি আসে। সেও ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার ভাগিনার নিকট থেকে সাতশ’ টাকা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। ঘটনাটি আমি মোবাইল ফোনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমীনকে সবিস্তারে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিঁনি কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। ফলে আমি ওই তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমীন এর সাথে মোবাইল ফোনে সংবাদকর্মীরা যোগাযোগ করলে তিঁনি জানান, আমি একা সব হাট-বাজারে যেতে পারি না। সে কারনে সিকিউরিটি গার্ডের দায়ীত্বে থাকা রাকিবুল ও হাফিজ উদ্দিনকে শনিবার চাঁপাপুরে পাঠাই ওই বাজারে দোকানপাট খোলা আছে কিনা সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের জন্য। আনসার বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ওই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, ঘটনা যা ঘটিয়েছে তার সব করেছে একজন সাংবাদিক। বিষয়টি আমি মোবাইল ফোনে শুনেছি। তবে যদি কোন দোকানদারের নিকট থেকে আনসার সদস্যরা টাকা আদায় করে থাকে এমন প্রমান হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।