প্রশংসায় ভাসছেন সাবেক অধ্যক্ষ নাইডু

আদমদীঘিতে বাড়ির ছাদে ছাগল-কবুতরের দৃষ্টিনন্দন খামার

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

বাড়ির ছাদে ছাগল ও কবুতর খামার গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন মোস্তফা আহম্মেদ নাইডু নামের এক অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ। বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরে তার খামারে রয়েছে নানা প্রজাতির ছাগল ও কবুতর। চাকরি থেকে অবসরের পর প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই দু’টি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। একদিকে করোনা কাল অন্যদিকে অবসরের অফুরন্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে শখের বসে হরেক প্রজাতির ছাগল ও কবুতর সংগ্রহ করে গড়া সমম্বিত খামারটি বাণিজ্যিক খামারে রূপান্তরিত করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা সদরের হাজী তাছের আহম্মেদ মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা আহম্মেদ নাইডুর চারতলার বাড়িটি উপজেলা সদরের বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহা সড়কের আদমদীঘি বাসস্ট্যান্ডের পাশে। সাড়ে ৮ শতাংশ জমির উপর তিঁনি চার তলা ভবন নির্মান করেছেন। নিচ তলায় মার্কেট, দ্বিতীয় তলায় পরিবার নিয়ে তিনি বসবাস করেন। তৃতীয় তলায় ছাগল খামার ও চতুর্থ তলায় কবুতর খামার গড়ে তুলেছেন। তার খামারের নাম রেখেছেন টি,আর, গোট এন্ড প্রিজন ফার্ম। মাত্র এক বছর আগে শখের বসে প্রাণী ও পাখির খামার দুটি তৈরী করলেও এখন তিঁনি খামার দুটিতে বাণিজ্যিক ভাবে ছাগল ও কবুতর প্রতিপালন করছেন। উপজেলা সদরে এমন দৃষ্টিনন্দন খামার গড়ে তোলার খবর পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে অনেক উৎসাহী লোকজন দেখতে আসেন। দর্শনার্থীরা মত প্রকাশ করেন যে, খামার দুটি থেকে শুধু আয় রোজগার শুধু হবে এমন নয়; এ উদ্যোগ আমিষ জাতীয় খাদ্য চাহিদার ঘাটতিও পূরন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

অবসর প্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোস্তফা আহম্মেদ নাইডু জানান, প্রায় বছরখানেক চাকরি থেকে অবসরের পর বলতে গেলে অনেকটা শখের বসে প্রথমে অল্প কয়েকটি বিভিন্ন প্রজাতির ছাগল ও কবুতর সংগ্রহ করে ছোট পরিসরে খামার তৈরী করি। এখন আমার খামারে ব্ল্যাকবেঙ্গল, রামছাগল, যুমনাপাড়ী, তোতাপুরি, বিটল, নিয়তিতোতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির অর্ধ শতাধিক ছাগল রয়েছে। এসব ছাগলকে প্রতিনিয়ত ঘাস, খড়, ভূষি, ভুট্টা জাতীয় খাবার খাওয়ানো হয়। মাসে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা খরচ হয়। পাশাপাশি কবুতর খামারে বলপোটার, কিং, সিরাজী, বিউটিহোমার, মক্ষি, হেলমেট, লালবোম্বাই, লোটন, গারপো, ঘিয়াচুন্নি, সোয়াচন্দন, গিরিবাজ, সাটিং, গলাকষাসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় শত উন্নত মানের কবুতর রয়েছে। দুই জন শ্রমিককে সাথে নিয়ে প্রতিদিন ছাগল ও কবুতর গুলোকে খাওয়ানো সহ পরিচর্যা করে থাকেন। এদিকে বাসার ছাদে দৃষ্টিনন্দন ছাগল ও কবুতর খামার দেখে অনেকের মধ্যে সমন্বিত খামার তৈরীর আগ্রহ বেড়েছে। খামারী মোস্তফা আহম্মেদ নাইডু আশা প্রকাশ করেন ছাগল ও কবুতর বিক্রি করে তার বিনিয়োগের টাকা ছাড়াও প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা মুনাফা হবে।