আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদকপ্রাপ্ত মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাকে সংবর্ধনা দিয়েছে,খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এনজিও সংস্থা

প্রকাশিত: ১:১৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন এনজিও সংস্থা’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদকপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়েছে।আজ শনিবার(১৩নভেম্বর)বিকাল ৩টায় খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা সভাপতিত্বে সিনিয়র সিটিজেনদের নিয়ে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।এরপর আন্তজার্তিক মাতৃভাষা পদকপ্রাপ্ত মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা তার প্রিয় ২শিক্ষক ও প্রিয় বাবাকে সাথে নিয়ে আসন গ্রহণ করেন।পরে উনার বাবা বরেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির সভাপতি এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা।প্রিয় শিক্ষক গোবিন্দ ত্রিপুরাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা, শিক্ষক নেপোলিয়ন চাকমাকে ফুল বরণ করে নেন খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা এবং আয়োজক সংস্থার সহকর্মীরা অনুষ্ঠানের মধ্যমণি মথুরা বিকাশ ত্রিপুরাকে একে একে উত্তরীয় দিয়ে স্বাগত জানান।

পরে স্বাগত বক্তব্য দেন কেএমকেস’র নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা।এতে বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজাতীয় টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা,বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের সভাপতি নলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা,খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও সনাক সভাপতি বোধিসত্ত্ব দেওয়ান,খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুধীন কুমার চাকমা,জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সুদর্শন দত্ত,বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত শোভা রাণী ত্রিপুরা।

বক্তারা বলেন,প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই অতুলনী গুণী ব্যক্তি আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের গর্ব ও অহংকার।তিনি শুধু আমাদের পার্বত্যঅঞ্চলের গর্ব নয়,তিনি পুরো বাংলাদেশের গর্ব।আমরা গর্বিত এ অঞ্চলে আজ আমরা একজন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় জাতীয় পদকপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক পেয়েছি।তরুণ প্রজন্মরা এই পথ অনুসরণ করবে।লেখায়, গবেষণায় এবং জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলবে।মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা আমাদের নতুন প্রজন্মদের কাছে আইকন, তরুণ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণা।আমাদের এই জেলায় আরো অনেক মথুরা তৈরি হোক এই প্রত্যাশা করি।

এরপর দর্শকসারি থেকে চিংলামং মারমা,শাহাদাত হোসেন কায়েসসহ আরো অনেকেই শুভেচ্ছা জানান।

এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষায় জাতীয় পদকপ্রাপ্ত মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন,এই পর্যন্ত আসা টা আমার জন্য সহজ ছিল না।আজকের এই সাফল্যের ভাগিদার আমার মা-বাবা,আমার প্রিয় শিক্ষক,আমার স্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। তারা আমাকে বিভিন্নভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।অনুপ্রাণিত এবং উৎসাহিত করেছে।এই সাফল্য টি আমার একার নয়,এই জেলার সকলের জন্য আমার এই সাফল্য টি।

তিনি আরো বলেন,নিজস্ব ভাষা কিংবা সকল ভাষা সংগ্রহের দায়িত্ব শুধু সরকারের না।সকলেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভাষা সংরক্ষণের জন্য কাজ করতে হবে,এগিয়ে আসতে হবে। ভাষা সংরক্ষণের দায়িত্ আমাদের সকলে।বক্তব্যের শেষে তিনি আয়োজক কমিটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় নারী উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী শাপলা দেবী ত্রিপুরা,সমাজসেবক ও জাবারাং কল্যাণ সমিতির সভাপতি এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা,পেরাছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা,সমাজসেবক ধীমান খীসাও বিভিন্ন এনজিও’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।