আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম মুল্য নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর

প্রকাশিত: 12:42 AM, June 12, 2020

২০২০-২০২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এতে যথাযথ রাজস্ব আহরণের স্বার্থে আমদানি পর্যায়ে মোবাইল ফোনের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় স্থানীয় মোবাইল সংযোজন খাতে ৫ শতাংশ রেয়াতি হারের মূসক একবছর বাড়ানোরও প্রস্তাব করেন।

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল টেলিফোন সেট উৎপাদনের উপর মূসক অব্যাহতি এবং সংযোজন খাতে ৫ শতাংশ হারে মূসক বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হবে। দ্রুত বর্ধনশীল এ খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উক্ত সুবিধা আরও এক বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করছি।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অইসিটি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ সেলুলার ফোন উৎপাদন ও সংযোজন। এ শিল্পে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সেলুলার ফোন উৎপাদন ও সংযোজনকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। সেলুলার ফোন উৎপাদন উৎসাহিত করা ও সংযোজন শিল্প প্রসারে উক্ত শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা আরও বিনিয়োগ বান্ধব ও যৌক্তিকীকরণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া, এ শিল্পের প্রতিরক্ষণ এবং আমদানি পর্যায়ে সঠিক মূল্য নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে যথাযথ রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে সেলুলার ফোনের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

বর্তমানে দেশে আটটটি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ফোন উৎপাদন ও সংযোজন করছে।

মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদশে মোবাইল ফোন ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমপিআইএ) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে (বছরে) ১০ হাজার কোটি টাকার হ্যান্ডসেট মার্কেট রয়েছে।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার হিসাবে, চলতি বছর জানুয়ারি নাগাদ দেশে নয়টি মোবাইল ফোন কারখানা স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং এর মধ্যে প্রায় সব কারখানা উৎপাদন ও সংযোজন শুরু করেছে।

ফোনের ন্যুনতম মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিএমপিআইএ যুগ্ম সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, মানসম্মত হ্যান্ডসেট বিক্রিতে এটি দরকার ছিল। আমাদের জানামতে, হ্যান্ডসেটের ন্যূনতম মূল্য সাড়ে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত ৩০ ডলার এবং এর উপরে ৪০ ডলারের মতো প্রস্তাব রয়েছে।

তবে বিশ্ববাজারের দাম বৃদ্ধি বা হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে সমন্বয় করা হলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।

মেজবাহ বলেন, স্মার্টফোন ও ফিচার ফোনে আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি না হওয়াতে করোনাকালীন সময়ে সুবিধা হবে। হ্যান্ডসেট আমদানিতে প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানি শুল্ক দিতে হয়।