আমরা নারী,আমরাও পারি;উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা মতিন

প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি’র কর্তৃক আয়োজিত ২দিনব্যাপী প্রোমোটিং রাইটস থ্রু মোবিলাইজেশন অ্যান্ড এমপাওয়ারম্যান্ট(প্রাইম) ওইমেন এক্টিভিস্ট ফোরাম সদস্যদের”পরিবর্তনকামী নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ”(Transformative Leadership Training) অনুষ্ঠিত হয়েছে।এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরাম সদস্য থেকে ২৪জন অংশ নেন প্রশিক্ষণার্থী।

বুধবার(২৩ফেব্রুয়ারী)২দিনব্যাপী”পরিবর্তনকামী নেতৃত্ব বিকাশ বিষয়ক প্রশিক্ষণ”(Transformative Leadership Training)সমাপনী অনুষ্ঠান জাবারাং কল্যাণ রিসোর্স সেন্টারের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।এদিন সমাপনী অনুষ্ঠানে খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি’র নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উজেলার নির্বাহী অফিসার মাহফুজা মতিন।প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ’র মাস্টার ট্রেইনার নবলেশ্বর দেওয়ান(লায়ন) এবং সমাজ সংগঠক ও গবেষক জয় প্রকাশ ত্রিপুরা।

এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।বিষয়সমূহ হল..১.আমি ও আমার পরিচয়ঃ পার্বত্য নারীর অবস্থা ও অবস্থান।২. জেন্ডার, জেন্ডার ভূমিকা, বৈষম্য ও ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়া।৩. অধিকার, মানবাধিকার ও নারীর অধিকার। ৪. জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতাঃ ধরন, কারন ও প্রতিরোধ। ৫. নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের ভূমিকা বা গুরুত্ব। ৬.সমাজ রূপান্তরের কার্যক্রম বাস্তবায়নে নারী নেতৃত্বর গুরুত্ব, কৌশল ও চ্যালেঞ্জ। ৭. ক্ষমতায়নের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি।৮. দ্বন্ধ/ বিরোধ প্রশমন ৯. প্রথাগত প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের সমতা।সর্বশেষ আগামী তিন মাসের জন্য কর্মপরিকল্পনা প্রনয়ন।

প্রশিক্ষণ কর্মশালা’র সমাপনী অনুষ্ঠানে নিশি ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে মাহফুজা মতিন প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন,নারীদের।নিজের ক্ষমতায়ন নিজেরাই তৈরি করতে হবে।আমরা নারী,আমরাও পারি,আমরা সব পারি।আমাদেরকো পারতেই হবে।নারীর ক্ষমতায়ন বলতে একধরনের অবস্থাকে বোঝায়, যে অবস্থায় নারী তার জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাধীন ও মর্যাদাকর অবস্থায় উন্নীত হতে পারে। নারীর ক্ষমতায়ন তখনই সম্ভব, যখন কোনও বাধা কিংবা সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নারী শিক্ষা, কর্মজীবন এবং নিজেদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারবে।বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য অনেকগুলো চেষ্টা করছে।তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে শিক্ষায় নারীদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহ প্রদান করে আসছেন।ত্রিভুবনে জানবে না কেউ আমরা তীর্থগামী,কোথায়, যেতেছি কোন দেশে সে কোন দেশে।

তিনি আরো বলেন,শিক্ষায় নারীদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা, নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করা, আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং রাজনীতিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার জন্য সরকারের গৃহীত উদ্যোগ ও সাফল্য অভাবনীয়।আমাদের অঙ্গীকার ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ জন্য প্রয়োজন নারী-পুরুষের সমতা, সমসুযোগ, সমমর্যাদাবোধ ও সব মানুষের অংশগ্রহণে জাতীয় উন্নয়ন। তাই সব রকম বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই এবং নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি রাষ্ট্র এবং তার নাগরিকদেরও সমান দায়িত্ব আছে। প্রতিটি ব্যক্তি, সমাজ এবং সর্বোপরি পুরো রাষ্ট্রের সচেতন হওয়া দরকার। আমাদের সমাজে প্রচলিত নারীর প্রতি নেতিবাচক ধ্যান-ধারণা, মনোভাব এবং আচার-আচরণ বদলাতে হবে এবং এটি প্রথমে শুরু করতে হবে পরিবার থেকেই। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীদের বাদ দিয়ে কোনো টেকসই উন্নয়নই সম্ভব নয়। তাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে পরিবার,সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের স্বার্থেই।