আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রকল্পের কার্যক্রম অগ্রগতি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে আমাদের জীবন,আমাদের স্বাস্থ্য,আমাদের ভবিষ্যৎ প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও অভিজ্ঞা বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার( ০১ ডিসেম্বর)সাড়ে ১১ টায় জেলা পরিষদের হল রুমে, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা এবং খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে“আমাদের জীবন, আমাদের স্বাস্থ্য, আমাদের ভবিষ্যৎ” প্রকল্প কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা।পরে প্রকল্পের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের মাস্টার ট্রেইনার নবলেশ্বর দেওয়ান(লায়ন)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন,বাল্য বিবাহ একজন মেয়ের জীবনকে পঙ্গু করে দেয়। মেয়েরা শিক্ষিত হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে। তাই ক্লাবগুলোতে দক্ষতামুলক বিভিন্ন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার প্রতি জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন,কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্যসেবা ও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করলে সেবাগুলো নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। “বাল্য বিবাহ মেয়েদের জীবন পঙ্গু করে ফেলে। তাই বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের জন্য সবাইকে আরো বেশি জোর দিয়ে কাজ করার আহবান জানান।

তিনি বলেন,জাবারাং, তৃনমুল ও কেএমকেএস কর্তৃক পরিচালিত ৯০টি কিশোরী ক্লাবে কিশোরীদের দক্ষতাবৃদ্ধির জন্য আগামী অর্থ বছরের ৯০ টি সেলাই মেশিন দেয়ার ঘোষণা দেন। এছাড়াও কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জেলা পরিষদ বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচিগুলোতে কিশোরী ও নারীরা যেন অংশগ্রহণ করে সেই জন্য প্রচারনা করার জন্য তিনি এনজিওদের প্রতি আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি বক্তব্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রত্যেক উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কৈশোর বান্ধব কর্ণার স্থাপন করা হয়েছে। কিশোরীদের সেবা দেওয়ার জন্য এই কেন্দ্রগুলো সব সয় খোলা রয়েছে এবং সেখানে একজন দায়িত্বরত ভিজিটর রয়েছে। সেখানে কিশোরীদের জন্য সবধরনে উপকরণ দেয়া আছে (প্যাড ও ঔষধ)। সেখানে কিশোরীদের নিয়ে আসার জন্য সংশ্লিষ্ট এনজিওদেরকে অনুরোধ করেন।এছাড়াও অন্যান্য বক্তারা বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সেবা ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা এবং কিশোরীদের শিক্ষার জন্য সবাই যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত প্রকাশ করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন,মোনঘর কিশোরী ক্লাবের সদস্য হিটুশি চাকমা,দীঘিনালা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সীমা দেওয়ান, মহালছড়ি উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
সুপন চাকমা, মহালছড়ি উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ডাঃ ধনিষ্টা চাকমা,দিঘীনালা উপজেলা,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পন কর্মকর্তা ডাঃ তনয় তালুকদার,গুইমারা উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিতুল মনি চাকমা, দীঘিনালা উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নিতল দেওয়ান,সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেদাক মারমা, চেয়ারম্যান,দীঘিনালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা প্রমুখ।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন নুপুর কান্তি দাশ,পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী পরিচালক টিটন খীসা,জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন চৌধুরী, উপ-পরিচালক,বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রজেক্ট ম্যানেজার সঞ্জয় মঞ্জুমদার,খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী প্রমুখ।
সভায় কার্বারী,হেডম্যান, জনপ্রতিনিধি ও সরকারী লাইন ডিপাটমেন্টের কর্মকর্তাবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।