আমার জাতিকে আমি সম্মান না দিলে,কেউ এসে সম্মান দিবে না;মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা

প্রকাশিত: ১০:৩৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“ঐক্য-শিক্ষা-সংস্কৃতি-প্রগতি”এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ,খাগড়াছড়ি সদর আঞ্চলিক শাখার বার্ষিক সম্মেলন ও সদর উপজেলাধীন ইউনিয়ন সমূহের নব-নির্বাচিত ২৯জন ত্রিপুরা
জনপ্রতিনিধিদের মাঝে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার(১৯মার্চ)বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের নিজস্ব ভবনের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী নানান আয়োজনের মধ্য এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শুরুতেই জাতীয় সংগীত ও দলীয় সংগীত এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এতে বাত্রিকস সদর আঞ্চলিক শাখা’র সভাপতি বিপ্লব কান্তি ত্রিপুরা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিকেএস’র কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সুশীল জীবন ত্রিপুরা।

আলোচনা সভায় বাত্রিকস সদর আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক মিহির কান্তি ত্রিপুরা সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা এবং বিটিকেএস’র বার্ষিক প্রতিবেদন ও উপস্থাপনা করেন সাধন ত্রিপুরা।ধারণাপত্র পাঠ করেন নবলেশ্বর ত্রিপুরা লায়ন।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুশীল জীবন ত্রিপুরা বলেন,সমগ্র বাংলাদেশে ত্রিপুরা সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী একমাত্র সংগঠন হলো বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ(বিটিকেএস)।আমাদেরকে অবশ্যই ত্রিপুরা জাতি সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের জায়গা করে নিতে হবে। সমাজ উন্নয়নে প্রতিটি বাত্রিকস’র বিভিন্ন শাখাকে সদর আঞ্চলিক শাখা’র মতো কাজ করে যেতে হবে। তাহলে আমরা সমাজের জন্য একটি সুশৃঙ্খল সমৃদ্ধ সমাজ গঠন করতে পারবো।

জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা বলেন,আমাদের সমাজে নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনা,নেতা অনেক আছে,নেতৃত্ব দেয়ার লোক নেই।সবাই নেতা হতে পারে,কিন্তু কর্মী নেই।নেতা বানানোর চেয়ে কর্মী বানানো সবচেয়ে জরুরী।যে কর্মী জাতির জন্য এবং সমাজের জন্য কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন,আমার জাতিকে আমি সম্মান না দিলে,কেউ এসে সম্মান দিবে না।

খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন,বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে পারলেই ত্রিপুরা সমাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো এবং প্রান্তিক এলাকায় বসবাসরত ত্রিপুরা সমাজের নারী-পুরুষ,বৃদ্ধসহ সকল বয়সীদের সাথে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সম্পর্কে সচেতনতামূলক সভা-সেমিনার করতে হবে। কারণ অধিকাংশ
ত্রিপুরা পাড়া গুলো পাহাড়ে থাকাই তারা এ বিষয়ে সচেতন না। আমি এবং আমার প্রতিষ্ঠান সব সময় এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। এজন্য সদর শাখা তথা সমগ্র বাংলাদেশের আঞ্চলিক শাখাগুলোকে এক সাথে কাজ করতে যেতে হবে। আমি এ সংগঠনের প্রতি সব সময় উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সহযোগীতা করার আশ্বাস ব্যক্ত করছি।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,বিটিকেএস কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্নেহাশীষ ত্রিপুরা মিঠু,সিলেট আঞ্চলিক শাখার সভাপতি পরিক্ষিত দেববর্মা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞান দত্ত ত্রিপুরা,গোলাবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান উল্লাস ত্রিপুরা,পেরাছড়া ইউপি চেয়ারম্যান তপন বিকাশ ত্রিপুরা,ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা,জেলার প্রথম শ্রেণীর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক এস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরাসহ সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য, সাধারণ সদস্য ও বিটিকেএস’র বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।