ইসরায়েলের অদ্ভুত প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা আয়রন ডোম

প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

গাজায় হামাস প্রধানের বাড়িতে বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েল এবং পাল্টা আক্রমণে ইসলামিক গোষ্ঠীটি তেল আবিবে রকেট ব্যারেজ নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা সপ্তম দিনের মতো সহিংসতা অব্যাহত রইলো।
গত সপ্তাহের সোমবার থেকে রীতিমতো যুদ্ধের আকার নিয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সংঘাত । একে অন্যকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের পর দুই দেশের মধ্যে এত বড় বিরোধ দেখেনি বিশ্ব।

গাজায় বিমান হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। পাল্টা রকেট ছুড়ছে গাজা। যদিও সেই রকেট ইসরায়েলের আকাশে এসে এক অদৃশ্য দেওয়ালে ধাক্কা খাচ্ছে।কী সেই দেওয়াল?‌ কোন যাদুবলে নিষ্ক্রিয় হচ্ছে গাজা থেকে ছুটে আসা হামাস গোষ্ঠীর রকেট?‌ উত্তর হল, ইসরায়েলের তৈরি আয়রন ডোম।

বিজ্ঞানে, বিশেষত যুদ্ধ বিজ্ঞানে বরাবরই উন্নত ইহুদিদের এই দেশ ইসরায়েল। তাই গোটা দুনিয়া তাকে একটু সমঝেই চলে।
রাফাল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস এবং ইসরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের যৌথ উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছিল এই প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিতে একটি র্যাডার রয়েছে। ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা সমস্ত রকেট সে নিমেষে শনাক্ত করে ফেলে। এমনকী শত্রুর হেলিপকপ্টার, আর্টিলারি, মর্টার, মানববিহীন কোনও উড়ন্ত যান, যুদ্ধবিমানকেও চিনে নেয়। এই ব্যবস্থায় ক্ষেপনাস্ত্রও রয়েছে। আর এই র‌্যাডার এবং ক্ষেপনাস্ত্রের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে বিএমসি। র‌্যাডার শত্রুর গোলা চিনে ফেলে। বিএমসি সেই বার্তা বহন করে। সেই অনুযায়ী লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপনাস্ত্র হানে আয়রন ডোম।
সমস্ত আবহাওয়ায় কাজ করতে পারে এই প্রযুক্তি। আয়রন ডোম তার আশেপাশে সর্বনিম্ন ৪ কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৭০ কিলোমিটার দূরত্ব থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে।

এ রকম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যে দেশে দরকার, তা প্রথম ইসরায়েল বোঝে ২০০৬ সালে। লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধের বছরে। সেবার লেবানন থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট, গোলা ছুটে আসে। ইসরায়েল বোঝে, দেশবাসী, শহরকে বাঁচাতে এসব আটকানো দরকার। ২০১১ সালের মার্চে প্রথম দেশে প্রতিস্থাপন করা হয় এই ব্যবস্থা। ৭ এপ্রিল ফিলিস্তিন থেকে আসা একটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করে এই প্রযুক্তি। পরের তিন বছরে শত্রুর ১২০০ রকেট নাকি সে ধ্বংস করেছে।

তবে এখন আয়রন ডোমের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।কারন হামাসের রকেট ইসরায়েলের শহরের বিভিন্ন ভবন ধ্বংস করছে এমনকি বিমান বন্দর ও।