ঢাকা, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ৭ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি

একটি শিশুর মৃত্যু এবং কিছু কথা


প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২১

আমারো একটা কন্যা ছিলো

আমার মেয়েটা ৯০০ গ্রাম ওজন নিয়ে ৮ মাসে জন্মনেয়। ৩৩ দিন আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের NICU তে ভর্তি থেকে সে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরে। ৩ কেজি ওজন হয় প্রায় ৫ মাস বয়সের আগে আগে। প্রায় সবদিক থেকেই সুস্থ ছিলো।রুটিন চেকআপে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেলের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ গুলে তাজকিয়া ম্যাডামের কাছে নিয়ে যাই চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে। ম্যাডাম রুটিন টেস্ট করে বলেন যে Anaemia (Hypochromic mycrocytic anaemic, Hb- 6.8%) ব্লাড (PRBC) দিতে হবে। আমরা ম্যামের আন্ডারে বাবুকে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেলে ভর্তি করাই 5 ই সেপ্টেম্বর দুপুরে। রাত 8:30 এ ব্লাড এনে জমা দেই নার্স স্টেশনে। আসি আসি করে তারা ব্লাড দেয়া শুরু করে রাত 11:25 এ। তাজকিয়া ম্যাম বার বার বলে গেছেন 15 ml ব্লাড 2 ঘন্টায় যাবে ট্রান্সফিউশন পাম্পের মাধ্যমে। সেখানে ঐ সময়ের কর্তব্যরত ডাক্তার ডাঃ তাপসী (মেডিকেল অফিসার, পেডিয়েট্রিকস) কর্তব্যরত নার্সকে সরাসরি ব্লাড লাগানোর নির্দেশ দেন। যদিও কেবিনে ট্রান্সফিউশন পাম্প এনে রেডি করা ছিলো। যাই হোক ডা: তাপসী ও নার্স দুজন উপস্থিত থেকে ব্লাড শুরু করে দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যান। হঠাৎ ব্যাগের দিকে তাকিয়ে দেখি ব্যাগ প্রায় খালি, ব্লাড রানিং চলছে। আমি তাড়াতাড়ি ব্লাড বন্ধ করে নার্সকে ডাকি এবং ডাক্তারকে ডাকি।ব্যাগে 50 ml PRBC ছিলো যার প্রায় 30 ml এর বেশি 5 মিনিটে ট্রান্সফিউসড হয়ে যায়। আমি ও আমার স্ত্রী পাগলের মত ডাক্তারকে আসার জন্য নার্সকে অনুরোধ করতে থাকলেও ডাঃ তাপসী একবারের জন্যও আসেননি। নার্স, আয়া বুয়া সবাই গিয়ে ওনাকে ডেকে এসেছেন কিন্তু উনি আসেননি, এমনকি আমার স্ত্রী, যিনি আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তার তিনি নিজে গিয়ে ওনাকে আসার জন্য অনুরোধ করলে উনি উত্তর দেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত, আসতে পারবো না, তুমি নিজে ব্লাড বন্ধ করে দাও,এটা সিস্টারের ভুল, আমার কিছু করার নাই।’ উনি রাত 2:15 তে পাশের কেবিনে রোগী ফলোয়াপ দিলেও আমার কেবিনে আসেননি। রাত আনুমানিক 2:25 এ আমি ওনাকে নার্স স্টেশনে বসা দেখে জবাবদিহিতা চাই ও বাকবিতন্ডা হয়। উনি বলেন, ‘আমার অন্য জরুরী রোগী ছিল, এটা সিস্টারের ভুল, এটা আপনাদের গায়ে ধাক্কা লেগে রানিং হইছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বললাম যার ভুল ই হোক আপনি আসবেন না? বাচ্চাটাকে ফলোয়াপ দিবেন না? ম্যাডামকে জানাবেন না যে এরকম একটা সিচুয়েশন হয়েছে? উনি এরপর ও বাবুকে দেখতে কেবিনে আসেন নি। সকাল পর্যন্তও উনি বা অন্য কেউ আসেন নি। সকালে তাজকিয়া ম্যাম রাউন্ডে এসে সব শুনে বললেন যে আজকে দ্বিতীয় ব্যাগ ব্লাড NICU তে নিয়ে দিব। NICU তে দ্বিতীয় ব্যগ ব্লাড দেয়ার শেষ দিকে আমার বাচ্চা কার্ডিয়াক এরেস্টে মারা যায় গত 6 ই সেপ্টেম্বর রাত 9 টার দিকে। আমি এ ব্যাপারে আনোয়ার খান মর্ডান মেডিকেলের কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। পিতা হয়ে কন্যার লাশ কবরে নামানোর যন্ত্রণা কিছুতেই হয়তো কমবে না।কিন্তু আমার পুতুলের মত মেয়েটাকে যে অবহেলার শিকার হয়ে জীবন দিতে হল এর জন্য যে বা যারা দায়ী তাদের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া কি উচিত নয়?

ডাঃ মোঃ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন
ঢামেক K 62
2004-05 সেশন

 

** লেখাটি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত