এক হাজার ফুট উচ্চ পাহাড়ে নব-নির্মিত সার্বজনীন শিব মন্দির উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

ওঁ সত্যম্ শিবম্ সুন্দরম্ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অদুল-অনিতা ট্রাস্টের অর্থায়নে দীঘিনালা শিবছড়ি শ্রী শ্রী শিব মন্দির পরিচালনা কমিটি’র আয়োজনে নব-নির্মিত শিবশ্বরী সার্বজনীন শ্রীশ্রী শিব মন্দির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।সমতল থেকে ১হাজার ফুটের অধিক উচুঁ পাহাড়ে নব-নির্মিত মন্দির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ,কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্নেহাশীষ ত্রিপুরা মিঠুু।

সোমবার(২৮ফেব্রুয়ারী) দীঘিনালা উপজেলার শিবশ্বরী এলাকায় সনাতনী গীতা সংঘ,কেন্দ্রীয় কমিটি’র পরিচালনায় ও তত্বাবধানে এ সার্বজনীন শিব মন্দির নির্মিত হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাত্রিকস দীঘিনালা আঞ্চলিক শাখা’র সভাপতি ঘনশ্যাম ত্রিপুরা এবং পুরোহিত্যে করেন ত্রিপুরা সনাতনী গীতা সংঘ,কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রভাংশু ত্রিপুরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুরোহিত্য ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত শ্রীযুক্ত প্রভাংশু ত্রিপুরা বলেন,এই হাজার ফুটের অধিক উচ্চ পাহাড়ের উপরে মন্দির স্থাপিত হয়েছে।এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয়।এই প্রত্যন্ত উচ্চ পাহাড়ের উপরে সুন্দর একটি শিব মন্দির উপহার পেয়েছেন শিবশ্বরী ধর্মপ্রাণ এলাকাবাসী।

আমরা সকলেই জানি যে দেবাদিদেব মহাদেব যদি আমাদের ওপর কৃপা করেন তা হলে আমাদের জীবনে ভাগ্যের চাকা ঘুরতে খুব বেশি সময় লাগে না। ভগবান শিব অল্পে সন্তুষ্ট হন। এতে কোনও সন্দেহ নেই। ভগবান কখনওই তাঁর ভক্তের কাছে প্রচুর কিছু আশা করেন না। তিনি ভক্তের ভক্তিতে এবং অতি অল্পে সন্তুষ্ট হন।কথায় আছে যে ভগবান শিব ভক্তের কাছ থেকে এক বিন্দু জল পেয়েই তাঁর ওপর প্রসন্ন হয়ে যান।আবার এ কথাও শোনা যায় যে ভগবান শিব সেই ভক্তের ওপর অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন যার মধ্যে থাকে কিছু লক্ষণ। অর্থ ধন সম্পদ সব কিছু থাকা স্বত্বেও যার মধ্যে একেবারেই অহঙ্কার থাকে না।যিনি সর্বদা অপরের সঙ্গে নম্র ব্যবহার করেন।যিনি পশু পাখি খুব পছন্দ করেন।যাঁর রাগ অত্যন্ত কম এবং কাউকে খারাপ কথা বলেন না।খুব সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। কাউকে নিচু করার প্রবণতা তাঁদের মধ্যে থাকে না।নিজের কথা না ভেবে অন্যকে সাহায্য করেন।নিজে নির্ধন হয়েও অন্যকে দান করেন।
খুব অল্পে সন্তুষ্ট থাকেন এবং দুর্লভ কোনও কিছুর আশা করেন না।

এ সময় উদ্বোধক স্নেহাশীষ ত্রিপুরা মিঠু বলেন,এ এলাকায় শিক্ষিত এর হার খুবই দুর্বল।আমি অভিভাবকদের অনুরোধ জানাচ্ছি যে,আপনারা যেন আপনাদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।সেইসাথে তাদের প্রতি যেন সবসময় যত্ন রাখেন।আপনাদের সন্তানেরা যেন ভালো কেন স্কুল,কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে,ভবিষ্যতে আপনাদের এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারেন এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পরিবার,সমাজ এবং দেশের উন্নয়নের জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন,শিব হলেন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ দেবতা। সনাতন ধর্মের শাস্ত্রসমূহে তিনি পরমসত্ত্বা রূপে ঘোষিত। শিব সৃষ্টি-স্থিতি-লয়রূপ তিন কারণের কারণ, পরমেশ্বর- এটা তার প্রণাম মন্ত্রেই বার বার উঠে এসেছে। তিনি জন্মরহিত, শাশ্বত, সর্বকারণের কারণ; তিনি স্ব-স্বরূপে বর্তমান, সমস্ত জ্যোতির জ্যোতি; তিনি তুরীয়, অন্ধকারের অতীত, আদি ও অন্তবিহীন।সমাজের শান্তি এবং নৈতিক প্রতিষ্ঠার জন্য সঠিক ধর্ম ও সকল পেশার মানুষকে মন্দিরমুখী হতে হবে। মানুষ কর্মের পরে ধর্ম করবে মনের আনন্দ ও উল্লাসের সাথে।
পরে তিনি মন্দির কমিটির সভাপতি নিকট শিব পূজা উপলক্ষে নগদে ৫হাজার টাকা উপহার স্বরুপ তুলে দেন।তিনি সর্বদা মন্দিরের এবং এ এলাকার উন্নয়নের জন্য সাধ্যমতো পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস ব্যক্ত করেন। পরিশেষে মন্দির নির্মাণের সহযোগিতা করার জন্য অদুল-অনিতা ট্রাস্টের প্রতি এবং মাননীয় এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র প্রতি বিটিকেএস পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাত্রিকস দীঘিনালা আঞ্চলিক শাখা’র সভাপতি ঘনশ্যাম ত্রিপুরা বলেন,এই এলাকা এবং মন্দিরের উন্নয়নের জন্য যেকোন প্রয়োজন হলে,কমিটির মাধ্যমে আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন।আমরা সামর্থ্য অনুুযায়ী আপনাদের পাশে থাকবো।আগামীতে আমরা এই মন্দিরের জন্য এককালীন অর্থ বরাদ্ধ দেয়া হবে বলে আশ্বাস ব্যক্ত করেন।তিনিও সর্বদা শিবশ্বরী মন্দির উন্নয়নের জন্য সর্বদা পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

এ সময় ত্রিপুরা সনাতনী গীতা সংঘের সহ-সভাপতি ও গণ্যমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ত্রিপন জয় ত্রিপুরা,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চেন্দ্র লাল ত্রিপুরা(শুভ), স্থানীয় কার্বারী হারুন কুমার ত্রিপুরা,ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরাম,বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য-প্রচার সম্পাদক খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক এবং দীঘিনালা উপজেলার টিএসএফ এর নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।