করোনায় আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো দেউলিয়ার পথে

প্রকাশিত: 1:27 AM, June 6, 2020

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ক্ষতি সবাইকেই ছুঁয়ে গেছে। বিশ্ব অর্থনীতি দাঁড়াতে কয়েক বৎসরও লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা। তবে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়ে এয়ারলাইন্স শিল্পের। যাত্রী না থাকায় এখন বন্ধ আকাশপথের অন্যতম দুই সংযোগ কেন্দ্র- দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দর। এ দুই বিমানবন্দর থেকে ইতিহাদ ও এমিরেটস বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিচালনা করতো। সরকারের থেকে আর্থিক প্রণোদনা না পেলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ব্যবসার ৮৫ শতাংশ দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা করছে সর্ববৃহৎ এই দুই এয়ারলাইন্স। ইউএস-ইউএই বিজনেস কাউন্সিল প্রকাশিত বিবৃতিতে এমন আশঙ্কার কথা জানান।

করোনায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা একদম পথে বসে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার ভার্জিন এয়ারলাইনস সরকারি সাহায্য পেতে ব্যর্থ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাজ্যের বাজেট ক্যারিয়ার ফ্লাইবিও আর্থিক চ্যালেঞ্জ নিতে অক্ষমতার কথা জানায়। এদিকে কলম্বিয়ার বিমান সংস্থা এভিয়ানকা (এভিএইচ) নিউইয়র্কের দক্ষিণ জেলাতে দেউলিয়া হওয়ার জন্য মামলা দায়ের করে। কোভিড- ১৯ মহামারীর অপ্রত্যাশিত প্রভাব কেই পতনের জন্য দায়ী করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এভিয়ানকা’র দাবি, বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিমান সংস্থা তারা। ইউরোমনিটারের মতে, গত বছরের শেষের দিকে চিলির ল্যাটম এয়ারলাইনস ও ব্রাজিলের জিওএল লিনহাস আরিয়াস এর পরে মার্কেট শেয়ারের ভিত্তিতে লাতিন আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম বিমান সংস্থা ছিল এটি।

করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বিশ্ব অর্থনীতি। আর এরমধ্যে ইউরোপের বড় দুই এয়ারলাইন্স লুফথান্সা ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্মী পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে৷ তাদের এ পরিকল্পনায় এক লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। করোনা ভাইরাসের কারণে ইউরোপের বিমান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জানা যায়, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলও প্রায় বন্ধ থাকায় লুফথান্সা ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে কোটি কোটি টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ ধকল সামলে উঠতে এয়ারলাইন্স দুটি এক লাখের বেশি কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ঘোষণা করে। তারা এর মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার কর্মীর চুক্তি মে মাস পর্যন্ত স্থগিতের বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে কথা বলেছে। পাইলটদের বেতন আগেই অর্ধেক করে ফেলেছে তারা। এবার ফারলো স্কিম এর অধীনে কেবিন ও গ্রাউন্ড ক্রু, প্রকৌশলী এবং অফিস কর্মীদের চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। করোনা সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যই ব্রিটিশ সরকার ফারলো স্কিম ঘোষণা করেছে৷ স্কিমের অধীনে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা বেতনের ৮০ শতাংশ পাবেন। জার্মানির ফ্ল্যাগক্যারিয়ার লুফথান্সা বিশ্বজুড়ে তাদের ৮৭ হাজার কর্মীর কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে তাদের ৬০ শতাংশ কর্মীর আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এই সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার, যাদের মধ্যে কেবিন ক্রু, গ্রাউন্ড ক্রু এবং পাইলটসহ সবাই আছেন। লুফথান্সার ৭৬৩টি উড়োজাহাজের মধ্যে প্রায় ৭০০টি বসে আছে।

অস্ট্রেলিয়ার ‘কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ’ ২০ হাজার কর্মীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়। এটি তাদের মোট কর্মীবাহিনীর দুই-তৃতীয়াংশ। ব্রিটেনের আরেক এয়ারলাইন ‘ইজিজেট’ যুক্তরাজ্যে তাদের ৪ হাজার কেবিন ক্রুকে লেঅফে পাঠিয়েছে। অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনগুলো আগামী ছয় মাস কর্মীদের বেতন দিতে সরকারের কাছ থেকে আড়াই হাজার কোটি মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষ জানায়, চলমান পরিস্থিতিতে এয়ারলাইন্স গুলোর ক্ষতির পরিমাণ ২৫০ বিলিয়ন বা ২৫ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে আকাশপথে গত তিন মাসে যাত্রী পরিবহন কমে গেছে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি।