খাগড়াছড়িতে ৬টি দোকানে আগুন,ক্ষয়ক্ষতি প্রায় অর্ধ কোটি টাকা

প্রকাশিত: ১২:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২০, ২০২১

খোকন বিকাশত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ি জেলার ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের শিব মন্দির এলাকায় আগুনে পুড়ে গেছে ৬টি দোকান। এতে ব্যবসায়ীদের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান,আনুমানিক গত রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের সুত্রপাত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানান, আগুনের সূত্রপাত শুরুতে বিদ্যুৎ অফিসে পরিচিত ‘বাবু ধন চাকমা’ নামে একজনকে ফোন দেয় দোকানদার অমর ধন চাকমা। পরে তারা ফায়ার সার্ভিসের মোবাইল নাম্বার পাঠিয়ে দেয়। পরে অনেকবার ফায়ার সার্ভিসে কল দিলেও রিসিভ করেনি। কোথায় থেকে ফোন পেয়েছে কিনা জানি না। কিছুক্ষণ পরে ফায়ার পৌঁছে।

শিব মন্দির এলাকা থেকে থেকে ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দূরত্ব ১২কিলোমিটার দূরত্ব হওয়ায় ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী পৌঁছতে অনেক দেরি হয়েছে। সময় মত তারা আসলে আমাদের এত বড় ক্ষতি হতো না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসার আগে ততক্ষণে দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানান তারা।

ঘটনাস্থলটি যেহেতু শিব মন্দির এলাকায়, সেজন্য কোন সহিংসতা কিনা সে বিষয়ে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তরুণ কুমার ভট্টাচার্য। তিনি জানান, এটি বিদ্যুৎতের শর্ট শার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে, মন্দিরটি রক্ষা পেয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকদের নামগুলো হচ্ছেঃ ০১. জ্যোর্তিময় চাকমা, ২. রাঙ্গামনি চাকমা, ৩. অমর ধন চাকমা, ৪. রামচন্দ্র চাকমা, ৫. কৃষ্ণ রাম চাকমা, ৬. পদ্ম কুমার চাকমা। তাদের ভাষ্যমতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা জানান ।

দোকানটিতে চালের দোকান, মুদি দোকান, কসমেটিক দোকান’সহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ক্ষতিগ্রস্থ জ্যোর্তিময় চাকমা বলেন, ‘আমার দোকানে ৫০কেজি পরিমাণের ৯বস্তা চাল ছিল। এছাড়াও বিভিন্ন মালামাল ছিল। সবমিলিয়ে যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬লাখের টাকার বেশি। আমি রাতে দোকান বন্ধ করে বাসায় চলে যাই। ভোর রাতে আমাকে একজন ফোন করে আগুন লাগার ঘটনা বলে। আমি দ্রুত দোকানে ছুটে আসি। আমি এসে দেখি ততক্ষণে সবকিছু আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে ।

আরেকজন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের মালিক অমর ধন চাকমা জানান, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী আসতে দেরি করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসার আগে ততক্ষণে দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।আমার পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকার উৎস হলো আমার এই দোকানটি।

এ ব্যাপারে ৫ নং ভাইবোনইউপি চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা জানান, ঘটনার ব্যাপারে শুনেছি। এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার ব্যাপারে উধর্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বলেও তিনি জানান।

খাগড়াছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রাজেস বড়ুয়া মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান,আমরা জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন পেয়ে,দ্রুত ঘটনাস্থলে রওনা দিই।ভোর ৪টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০মিনিট চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।আগুনের সূত্রপাত তদন্তের পরে জানা যাবে।