খাগড়াছড়িতে ঐতিহ্যবাহী ত্রিপুরা পোশাকে সাজছে দেবী দূর্গা

প্রকাশিত: ৯:১৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৮, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির লতিবান ইউনিয়নে কুড়াদিয়াছড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা মন্ডপে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজেছে দেবী দূর্গা।

খাগড়াছড়ি জেলা পানছছড়ি উপজেলার ৪নং লতিবান ইউনিয়নের কুড়াদিয়াছড়া এলাকায় অবস্থিত দূর্গা মন্ডপে ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজেছে স্থানীয় ত্রিপুরা মৃৎশিল্পীরা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,এই এলাকায় ২০১৪সাল থেকে ত্রিপুরাদের নিজস্ব পোশাক সজ্জিত করে দূর্গা দেবীর পূজা করে আসছে।তারা ৮বছর ধরে নিজ জাতি তথা ত্রিপুরা জাতির পোশাকে দেবীর পূজা উদযাপন করে আসছে।এতে স্থানীয় এলাকাবাসী এবং জেলাবাসীদের কাছে আকর্ষণের তুঙ্গে এই মন্ডপটি।দর্শনার্থীদের ভরপুর হয়ে যায় দূর্গা মন্ডপ।

এসময় কুড়াদিয়াছড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী দূর্গা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি কিরণ লাল ত্রিপুরা প্রতিবেদককে বলেন,আমরা দীর্ঘ ৮বছর যাবৎ এই আমাদের নিজস্ব(ত্রিপুরা) পোশাক সজ্জিত করে, “মা দূর্গা”র পূজা উদযাপন করে আসছি।এই নিয়মটি ২০১৪সাল থেকে চলমান। ২০১৪ সালে(শুরুতেই) এই পোশাকে মাধ্যমে পূজা উদযাপনের উদ্যোগটি হাতে নেন পূজা কুড়াদিয়াছড়ার উদযাপন কমিটির সাবেক সভাপতি সুবেন্দ্র ত্রিপুরা(কার্বারী)।উনার এই উদ্যোগটি আজও চলমান রয়েছে।
আমাদের পূজা মন্ডপের প্রত্যেক দেব-দেবীর পোশাক ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী দ্বারা সজ্জিত।এখানে দেবী দূর্গা,মহিষাসুর,কার্তিক,গণেশ,লক্ষী,স্বরস্বতী ও শনি দেবতাসহ সকলের পোশাক ত্রিপুরাদের নিজস্ব পোশাক দ্বারা সাজানো হয়েছে।
এই ভিন্নধর্মী পোশাকের দূর্গা দেবীকে একপলকে দর্শন করার জন্য প্রতি বছর হাজার হাজার ভক্তদের আগমন ঘটে এই মন্ডপে।
তিনি আরো জানান,প্রতি বছর এই ভিন্নধর্মী মন্ডপের জন্য ১লক্ষ থেকে ১লক্ষ টাকার মতো খরচ হয়ে থাকে।তিনি সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

এরপর কুড়াদিয়াছড়া শ্রী শ্রী দূর্গা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিরঞ্জন ত্রিপুরা বলেন,আমাদের পূজা মন্ডপের যাবতীয় সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন।এখন শুধু মন্ডপ সাজানোর পরে আগামী ১০তারিখ থেকে সকলের উন্মুক্ত থাকবে।

তিনি আরো জানান,আমরা পূজা আয়োজন করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন সব প্রস্তুতি চালাচ্ছি।জেলা পর্যায়ে এবং উপজেলা পর্যায়ে আমরা প্রশাসনিকভাবে যা করণীয়,সেটি উপজেলা পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলার বিভিন্ন মিটিং এ অংশ গ্রহণ করেছি।এখানে আমাদের উপজেলা ইউএনও এবং জোন আশ্বাস দিয়েছে।শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কমিটির উদ্যোগে আমরা একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করেছি।পূজার মন্ডপে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় জন্য।আমরা আশা করি এই বছর দূর্গা পূজার উদযাপনটি সুস্থ্যভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।