খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণে ভেঙ্গে গেছে কালভার্ট,চরম দুর্ভোগে ৩গ্রামবাসী

প্রকাশিত: ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলা সদর গোলাবাড়ী ইউনিয়নের মহালছড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত কালভার্ট টি টানা ভারী বর্ষণে ভেঙ্গে গেছে। কালভার্টিভেঙ্গে যাওয়ার কারণে এই রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলা অটোরিক্সাসহ ছোটখাটো যানবাহন ও তিন টি গ্রামের মানুষের চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। কালভার্টের খুব নিকটে স্কুল শিক্ষকের একটি বাড়ি ছিল। সেটিও এখন ভেঙ্গে যায় যায় অবস্থা,প্রচুর ঝুঁকিতে রয়েছে বাড়িটি।ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে আনুমানিক ১৫০-২০০ স্থানীয় মানুষের ।

সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, ভেঙ্গে যাওয়া কালভার্টটি গ্রামবাসীদের চলাচলের জন্য ২০১৪-২০১৫ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছিল। কালভার্টটি জেলা সদর জিরেমাইল এলাকার খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত। এই কালভার্টটি নির্মাণের পর ৩গ্রামের মানুষেরা অবাধে চলাফেরা করতে পারতো
টমটম,মোটরসাইকেল সহ হালকা যানবাহন চলাচল করতে পারতো। আজ প্রায় কয়েকবছর পূর্ব থেকেই কালভার্টটির নিম্নাংশের মাটি দিন দিন সরে যায়। তখন থেকে এই রাস্তা দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে অটোরিকশা,মোটর সাইকেল সহ হালকা যানবাহন চলাচল করত । নিম্নাংশের মাটির পরিমাণ দিন দিন সরে যাওয়ার ফলে গত রাত থেকে টানা বৃষ্টি ও প্রবল বর্ষণে বুধবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে কালভার্টটি ভেঙ্গে যায়। ফলে ওই এলাকার প্রায় ৩-৪টি গ্রামসহ স্থানীয় মহালছড়া বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়েছে।

সেই এলাকার বাসিন্দা ইয়েস সদস্য ও খাগড়াছড়ি জেলা শাখার একটি পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস’র সভাপতি চারু বিকাশ ত্রিপুরা আজকাল২৪.কম এর জেলা প্রতিনিধিকে জানান, কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গা থাকায় ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় মানুষদের।এই কালভার্ট টি দ্রুত নির্মাণ করা হলে, এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।

তিনি আরও বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া কালভার্টের পাশের খালে ওপর কাঠ বিছিয়ে সাময়িকের জন্য আমরা স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও গাছের সাঁকো তৈরি করে এপারে মানুষ ওপারে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হলেও এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা প্রায় ১৫০-২০০জন মানুষ তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পরিবহন করতে পারছে না। যতদ্রত সম্ভব বিকল্প কালভার্ট নির্মাণ করে দিয়ে স্থানীয় মানুষের চলাচলের সুবিধা করে দেওয়া প্রয়োজন। কালভার্টটি আবার নতুন করে নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানায়।

অপরদিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার (২৫আগস্ট) সকাল পর্যন্ত প্রবল বর্ষণে নিম্নাঞ্চলের মানুষ বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের আবাসন ব্যবস্থা ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্য মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

এসময় গোলাবাড়ির ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬নং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ক্রায়োরী মগিনী প্রতিবেদক কে বলেন, আজকে আমার নিজের বাড়ি ও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।আমি এখন নিজের বাড়ি ছেলে এপারে নিরাপদ জায়গায় ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় নিচ্ছি।আর কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়ার ব্যাপারে সবেমাত্র আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। এই বিষয়ে আমি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করবো।

এসময় কালভার্টের ব্যাপারে গোলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জ্ঞান রঞ্জন ত্রিপুরা মুঠেফোনে জানান, এটি চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাশের মহালছড়ার কালভার্ট । সেটি ভেঙ্গে গিয়েছে কয়েক ঘন্টা পূবে শুনেছিলাম। তবে আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের এই বিষয়ের কোন বাজেট নেই। তাই আমি বিষয়ে জেলার উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে ইতিমধ্যে অবগত করে রেখেছি। উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বর সাথে দেখলে শীঘ্রই কালভার্টের নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।