খাগড়াছড়িতে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকী পালন

প্রকাশিত: ১১:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

মহীয়সী বঙ্গমাতার চেতনা অদম্য বাংলাদেশের প্রেরণা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯২তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা,দোয়া,বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।সোমবার(০৮আগস্ট) সকালে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল,বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরা সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মনির হোসেন খান।

মহীয়সী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’র ৯২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা বলেন,বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা লাভ করে বাংলাদেশ। এ লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যে প্রেরণাদাত্রী ছিলেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। তিনি বঙ্গবন্ধুর গোটা রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তার প্রতিটি কাজে প্রেরণার উৎস হয়ে ছিলেন। ছয় দফা ঘোষণার পর বঙ্গবন্ধু যখন বারবার পাকিস্তানি শাসকদের হাতে বন্দী জীবন-যাপন করছিলেন, তখন আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কাছে ছুটে যেতেন। তিনি তাদের বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পৌঁছে দিতেন ও লড়াই-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগাতেন।আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর প্যারোলে মুক্তি নিয়ে কিছু কুচক্রী স্বাধীনতা সংগ্রামকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল, তখন প্যারোলে মুক্তির বিপক্ষে বেগম মুজিবের দৃঢ়চেতা অবস্থান বাংলার মুক্তি সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল। স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ছায়ার মতো অনুসরণ করা বেগম মুজিবকে জীবনে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেছেন, এ জন্য অনেক কষ্ট-দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তাকে।

অন্যান্য বক্তারা বলেন,এ দেশের মানুষের আন্দোলন-সংগ্রামে বেগম মুজিব যে কর্তব্যনিষ্ঠা, দেশপ্রেম, দূরদর্শী চিন্তা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তার ফলে বঙ্গবন্ধুর পাশাপাশি তিনি বঙ্গমাতার আসনে অধিষ্ঠিত। এ দেশের রাজনীতিতে তার অনন্য সাধারণ ভূমিকার জন্য চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। এই মহীয়সী নারী ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সপরিবারে খুনিচক্রের বুলেটের আঘাতে নির্মমভাবে শহীদ হন।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন
তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ বাসন্তী চাকমা,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শানে আলম,জেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক শওকত-উল ইসলাম,ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নূর হোসেন চৌধুরী,এডভোকেট আশুতোষ চাকমা,জেলা পরিষদের অন্যতম সদস্য শতরুপা চাকমা,জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার দে,উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ নুরুল আজম প্রমুখ।এছাড়াও জেলা যুবলীগ’র সাধারণ সম্পাদক কে.এম ইসমাইল হোসেন,যুব মহিল লীগের জেলা শাখার সভাপতি বিউটি রানী ত্রিপুরা,সাধারণ সম্পাদক বিলকিস আক্তার প্রমুখ।এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি উবিক মোহন ত্রিপুরা,জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি টিকো চাকমাসহ জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।