খাগড়াছড়িতে বর্ণিল আয়োজনে বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত

প্রকাশিত: ১:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১০, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

আজ ১০ জানুয়ারি মহান স্বাধীনতার স্থপতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ’র আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার(১০জানুয়ারি)সকাল ৮.৩০ মিনিটে জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পার্ঘ্য অর্পন ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।পরে র‍্যালি আকারে চেতনা মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য ও শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।র‍্যালিটি আবার দলীয় কার্যালয়ে এসে শেষ হয় এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রতিপাদ্যের বিষয় ছিল,”শতবর্ষের সুবর্ণরেখায় সেজেছে সোনার বাংলা,পিতার আরাধ্য পথে শেখ হাসিনা এগিয়ে চলা”।

আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী-লীগের সহ-সভাপতি কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া বলেন,বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্যে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুকে তার ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনারা আটক করে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। ওই রাতেই বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর শুরু হয় বর্বর হামলা।আজ এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর বিশ্ব জনমতের চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার। মুক্তির পর তিনি লন্ডন যান। সেখান থেকে ১০ জানুয়ারি দিল্লি হয়ে পৌঁছান ঢাকায়।
লাখো জনতা সেদিন তাদের প্রিয় নেতাকে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে খোলা ট্রাকে করে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) নিয়ে যায়।

জেলা আওয়ামীগে সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেশর নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন,পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। তাঁর ডাকে বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তি সংগ্রামে।উনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও কৌশলগত দক্ষতার কারণে আজ আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি।

জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মংক্যচিং চৌধুরী বলেন,এদেশ আমরা পেয়েছি দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়ে,মুক্তি যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
বঙ্গবন্ধু সেখানে সদ্য স্বাধীন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। প্রায় ২০ মিনিটের সেই আবেগঘন ভাষণে তিনি বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানে বন্দিদশায় তিনি ফাঁসিকাষ্ঠে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু তিনি জানতেন, বাঙালিকে কেউ ‘দাবায় রাখতে’ পারবে না।
“আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে। আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে। আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী-লীগ ‘র সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী,পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী,জেলা পরিষদের সদস্য মংক্যচিং চৌধুরী,জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক নিলোৎপল খীসা,জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক চন্দন কুমার দে,জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমা,জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জুয়েল ত্রিপুরা,জেলা পরিষদের সদস্য খোকনেশ্বর ত্রিপুরা,জেলা পরিষদের সদস্য শতরুপা চাকমা,সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মো: শানে আলম,জেলা আওয়ামী-লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্বজিৎ রায়,সাবেক ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পরিমল ত্রিপুরা,জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক উবিক মোহন ত্রিপুরা, উল্লাস ত্রিপুরা,মহিলা ইউপি সদস্য মিলি ত্রিপুরাসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।