খাগড়াছড়িতে বিশ্বভরা প্রজন্ম বিভাগ ও মা অভিভাবকদের আয়োজনে রবী ঠাকুরের প্রয়াণবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশিত: ১১:৪৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“আজি প্রণমি তোমারে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বভরা প্রজন্ম বিভাগ ও মা অভিভাবক, খাগড়াছড়ি জেলা শাখা’র উদ্যোগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম প্রয়াণবার্ষিকী উদযাপন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার ( ০২ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৪টায় মহাজন পাড়াস্থ এফএনএফ(FNF) রেস্টুরেন্ট এন্ড কনভেনশন সেন্টারে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা,নাচ,গান ও কবিতা আবৃত্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বিশ্বভরা প্রাণ,খাগড়াছড়ি জেলা শাখা’র সভাপতি সুমনা চাকমা,সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুল আবছার,সহ-সভাপতি এমিলি দেওয়ান,সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদ উল্লাহ,নির্বাহী সদস্য ইউসুফ আদনান,ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠ সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সংগীত প্রশিক্ষক অমলেন্দু মজুমদার,অফিস ব্যবস্থাপনা সম্পাদক খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাকসহ অভিভাবক ও তাদের শিশুরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত:গত ২২শে শ্রাবণ (৬আগস্ট-২০২২) খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম প্রয়াণবার্ষিকী/দিবস। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতেই তাঁর জীবনপ্রদীপ নির্বাপিত হয়েছিল।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলার রুচি ও সংস্কৃতির নির্মাতা। লেখালেখি শুরু করেছিলেন মাত্র আট বছর বয়সেই। বিচিত্র তাঁর বিষয়, বিপুল তার পরিমাণ। লেখালেখি ও চিত্রকর্ম করার পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিক্ষাবিস্তার, সাংগঠনিক কর্ম এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
ৃ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতুলনীয় সৃজনপ্রতিভা বাংলা কাব্য, উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, নাটক, ভ্রমণ, চিঠিপত্র, শিশুসাহিত্যসহ বাংলা সাহিত্যকে স্বর্ণময় উজ্জ্বলতা দান করেছে। গীত রচনা ও সুরস্রষ্টা হিসেবে তিনি নিজেই নিজের তুলনা। চিত্রকলা নতুন মাত্রা লাভ করেছে তাঁর প্রতিভায়।

এককথায় সাহিত্য-সংস্কৃতির হেন কোনো ক্ষেত্র নেই, যা তাঁর প্রতিভাস্পর্শে দীপ্তিমান হয়ে ওঠেনি। অপরদিকে তিনি কৃষক ও পল্লি উন্নয়নের কথা ভেবে চালু করেছিলেন কৃষিঋণব্যবস্থা। নতুন ধরনের শিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান। আবার অন্যায়, নিপীড়নের প্রতিবাদেও ছিলেন অকুতোভয়। জালিয়ানওয়ালাবাগে দেশবাসীর ওপর ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ সেনাদের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে তিনি ত্যাগ করেছিলেন নাইটহুড খেতাব।

দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও সারদা সুন্দরী দেবী দম্পতির ১৫ সন্তানের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন চতুর্দশ এবং পুত্রদের মধ্যে অষ্টম। কলকাতার বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের জোড়াসাঁকোর বাড়িতে তাঁর জন্ম ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ। ঠাকুর পরিবার তখন ছিল মর্যাদা ও সংস্কৃতিচর্চায় বিশেষ খ্যাতির অধিকারী। আভিজাত্যের সঙ্গে উদারতা ছিল ঠাকুর পরিবারের ঐতিহ্য।

সেই পরিবেশ শৈশবেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মনকে মুক্ত করে দিয়েছিল। পরবর্তীকালে বিশেষত বাংলার পদ্মা, মেঘনা, যমুনায় নৌকায় ভ্রমণের মধ্য দিয়ে তিনি নিসর্গ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষ করেছিলেন, সেটি তাঁর ভেতরে প্রকৃতি ও মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা সৃষ্টি করেছিল। তাঁর সাহিত্যে এর বিপুল প্রভাব পড়েছে।

১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল পুরস্কার বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বসাহিত্যের দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করে। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধেও কবির গান সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর গান আমাদের জাতীয় সংগীত।