খাগড়াছড়ির সেই আলোচিত নারীর পাশে দাঁড়িয়েছেন দীনময় রোয়াজা

প্রকাশিত: ৯:১২ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

গত১১ই আগস্ট বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ি বাজারে বিক্রি করতে আনা সেই আলোচিত মা সোনালী চাকমা ও তাঁর শিশুপুত্র রামকৃঞ্চ চাকমা (৬)’র পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহা ব্যবস্থাপক দীনা ময় রোয়াজা।বৃহস্পতিবার (১৮আগস্ট) বিকালে পাকুজ্যাছড়ির সেই আলোচিত নারীর বাড়িতে স্ব-শরীরে গিয়ে রামকৃষ্ণ চাকমাকে নতুন জামা-কাপড় ও নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। এ সময় সাথে ছিলেন ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুজন চাকমা।

আপনি এমন কিছু করতে পারি যা অনেকেই পারেন না, আবার অন্যরা ও এমন অনেক কিছু করতে পারেন যা আপনি কখনো করতে পারবে না। তবে একসাথে মিলে আমরা চাইলে অসাধারণ কিছু করে ফেলতে পারি।আমাদের সবার পক্ষে মহৎ কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে চাইলেই মহৎ ভালোবাসা দিয়ে আমরা ছোট ছোট কাজ করতে পারি। জীবনের একমাত্র লক্ষ হওয়া উচিত মানবতার সেবা করা। যদি ১০০ জন কে খাবার দিতে না পারেন তবে ১ জনকে খাওয়ান।মানবতা সকল মানব জাতি থেকে বড়। দূর্গতদের সেবা করা মানে ঈশ্বরের সেবা করা। সেই সেবা ও মহৎ কাজ করেই যাচ্ছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক দীনময় রোয়াজা।

প্রসঙ্গত:খাগড়াছড়ি বাজারে বৃহস্পতিবার সোনালী চাকমা(ডাকনাম রুপালী চাকমা) তার কলিজার টুকরা ছেলেকে বিক্রি করতে আনেন। এ সময় তিনি ছেলের দাম চান ১২ হাজার টাকা। পরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি হস্তক্ষেপ করে বিক্রি না করার জন্য। বাজার থেকে ছেলেসহ মাকে কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল চাকমার কাছে নিয়ে যায়। চেয়ারম্যান তাদের বুঝিয়ে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠান। পরে ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন সোনালাী চাকমা। 

কমলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুনীল চাকমা বিষয়টি জানার পর ছেলেসহ মাকে অফিসে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের জিম্মায় তাদের হস্তান্তর করা হয়।

ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুজন চাকমা বলেন, সোনালী চাকমা নিজে অসুস্থ্য। তার মধ্যে অভাবের সংসার। এমনিতে অভাব। তাই সন্তানকে মূলত কোনো ভালো পরিবারে কাছে দেওয়ার জন্য বাজারে নিয়ে গেছে। সেখানে কয়েকজনের কাছে তিনি সন্তানের বিনিময়ে ১২ হাজার টাকা চান। পরে বিষয়টি জেনে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি।

শিশু রাম কৃষ্ণ চাকমার মা সোনালী চাকমার ভাষ্যমতে; অভাবের সংসার। স্বামী ছেড়ে চলে গেছে অনেক দিন আগে। কোনো যোগাযোগ নেই তার সঙ্গে। ঘরে কোনো খাবার নেই। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ওষুধ কেনার টাকা নেই। কীভাবে বাঁচব ছেলেকে নিয়ে? তাই ছেলেকে ভালো পরিবারে দিতে চেয়েছিলাম।স্বামী ছেড়ে গেছেন অনেক দিন আগে। নিজেও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। ঠিকমতো কাজ করতে পারেন না। থাকেন বাবার বাড়িতে। সেখানেও অভাব নিত্যসঙ্গী। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়। এ অবস্থায় সন্তানকে মানুষ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। তাইতো বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার একটি বাজারে নিজের ৬ বছরের রামকৃষ্ণ চাকমাকে বিক্রি করতে আনেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।