খাগড়াছড়ি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান শহীদ দিবস পালন

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছে জেলার সর্বস্তরের নাগরিকেরা।

সোমবার(২১ফেব্রুয়ারী)প্রথম প্রহর ১২:০১ মিনিট থেকে জেলার শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পন ও শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। সকালে সর্বস্তরে অংশগ্রহণে সকলে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান।এ সময় শ্রদ্ধা জানান ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স’র চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি,তিন পার্বত্য জেলার সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি বাসন্তি চাকমা,জেলা প্রশাসন,পার্বত্য জেলা পরিষদ,জেলা পুলিশ সুপার,জেলা আওয়ামী-লীগ,জেলা বিএনপি,বৌদ্ধ-ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট,ইএনডিপি,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,সমাজসেবা অধিদপ্তর,তৃণমুল উন্নয়ন সংস্থা,জাবারাং কল্যাণ সমিতি,খাগড়াপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি,খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়ন,প্রেস ক্লাব,মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর,জেলা শিশু একাডেমি,ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিউট,সমাজিক সংগঠন,ত্রিপুরা স্টুডেন্টস্ ফোরাম,রেড-ক্রিসেন্ট সোসাইটি,বরক ব্লাড ব্যাংক,কেবিডিএ সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জেলার সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান।

২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশ ভাষা দিবস আন্তর্জাতিকভাবে পালন করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষার দিবসকে কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (International Mother Language Day) হিসেবে পালন করা হয়।  এটি একটি বিশ্বব্যাপী মাতৃভাষা দিবস এবং সারা বিশ্বে মানুষ দিবসটি পালন করে। মানুষ বহুভাষিকতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভাষাতত্ত্বের সচেতনতা প্রচার করতে এই দিনটি উদযাপন করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এই দিবসটি পালন করা হয়। ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করতে একদিন বহু বাঙালি শহীদ হন। এই দিনটির স্মৃতির জন্য, ইউনেস্কো ঘোষণা করেছিল যে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বাংলাদেশে বহু মানুষ তাদের মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ৫ই আগষ্ট, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।

একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালি জাতিসত্তার শেকড়ের অনুপ্রেরণর দিন। এই দিনটি ঐতিহ্যের পরিচয়কে দৃঢ় করেছে। বাংলা ভাষার রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসন লাভ করেছে। এ ভাষার কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অমর কাব্যগন্থ্য ‘গীতাঞ্জলি’ রচনা করে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন ১৯১৩ সালে। এ ভাষার অসাধারণ প্রজ্ঞাবান মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দিয়ে বাংলাকে নিয়ে গেছেন বিশ্ব পরিমণ্ডলে।

১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বাংলাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি এবং ২০১০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘এখন’ থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস হিসাবে পালিত হবে’ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। আর এভাবেই বাংলা ভাষার বিশ্বায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।