খাগড়াছড়ি কেএনএসআই’র উদ্যোগে “বঙ্গবন্ধু ও স্বপ্নের পাহাড়” শীর্ষক আর্ট ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠান

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

মুজিব জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ৪দিনব্যাপী “বঙ্গবন্ধু ও স্বপ্নের পাহাড়া”শীর্ষক আর্ট ক্যাম্প ২০২১’র সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবার(২১নভেম্বর)সকালে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের হল রুমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আলোচনা সভার পরপরেই তিন জেলার শিল্পীদের আঁকা প্রাকৃতিক পরিবেশ,বঙ্গবন্ধু ছবিসহ নানান ধরনের ছবি প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করা হয়।এতে পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বশিরুল হক ভূঁঞা’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক জিতেন চাকমা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,প্রত্যেকটা মানুষের মাঝে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে।এই প্রতিভাগুলোকে তুলে ধরার জন্য যে সমস্ত ক্যাম্পিং করা হয়,তারমধ্যে আর্টক্যাম্প একটি উল্লেখযোগ্য প্রতিভা। এই ক্যাম্প’র মধ্যদিয়ে শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ অনেক বেশি।আমাদের নতুন প্রজন্ম,স্কুলের বাচ্চারা, আমরা জানিনা তাদের ভেতরে কি আর্ট প্রতিভা আছে।যে বাচ্চারা আর্ট সম্পর্কে বুঝতে পারছেনা,সেটা যারা আর্টিস তারা তাদেরকে বুঝিয়ে দেবে।এটা এভাবে হয়েছে,এইরকম হবে।তাদেরকে আর্টস তৈরী হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।তাদেরকে এই আর্ট ক্যাম্পেইনে সম্পৃক্ত করার উদ্বুদ্ধ করতে হবে।তাদেরকে আর্ট বোঝানোর জন্য চেষ্টা করতে হবে।আর্টে ভেতরে কি লুকিয়ে আছে,সেটা বোঝার চেষ্টা করতে হবে।আর্ট একটি সৃজনশীল বিষয়।আমরা ভবিষ্যতে আর্ট ক্যাম্পিং করি কিংবা ওয়ার্কশপ করি,তাহলে আমাদেরে বাচ্চাদেরকেও Involve করতে হবে।সেটা মাথায় রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন,খাগড়াছড়ি জেলা খুবই লাকি, এই অর্থে যে এখানে জেলা পর্যায়ে আর্ট ক্যাম্পিং হয়।এটা কিন্তু আমি দেখেনি এর আগেও।গতবছর এখানে হয়েছে,এটা ভীষণ উল্লেখযোগ্য ঘটনা এ জেলার জন্য।
এটি এ জেলার জন্য গর্বের বিষয়।
পরিশেষে “বঙ্গবন্ধু ও স্বপ্নের পাহাড়”আর্ট শীর্ষক আর্ট ক্যাম্পের অংশগ্রহণ করা শিল্পীদের প্রতি শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষৎ উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধির কামনা করেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পুলিশ সুপার আবদুল আজিজ বলেন,এই কার্যক্রম টা বিশেষ রকমের উদ্যোগ লাগে,বিশেষ রকমের একটা শিল্পীরসত্বা লাগে এবং বিশেষ রকমের একটা মনন,মানসিকতা লাগে।এই মনন এবং মানসিকতা দিয়ে,ওই মনন ও মানসিকতার চোখ দিয়ে যারা দেখতে পায়,এমনিতে ধরেন আমরা কিছু একটা দেখবো।খালি চোখে আমরা এটি দেখা যাবেনা। কিন্তু আর্টিসরাই একটি বিশেষ চোখ দিয়ে যখন এটা দেখেন।আপনাদের শিল্পীস্বত্বায় এটি প্রস্ফুটিত হয়।এই জায়গা থেকে আমরা দেখতে পায়।যে জাতি জাতি তার মেধা,মননে যত বেশি সক্রিয়,শিল্প-সাহিত্যের প্রতি আন্তরিকতার সাথে সক্রিয়,তারা এগিয়ে গিয়েছে।
তিনি আরো বলেন যে,এই বিষয় গুলো চর্চার বিষয়,এটি এমনি এমনি অর্জন করা যায় এবং আসেনা।এ স্থানে আসার পেছনে অনেক শ্রম এবং সাধনা রয়েছে।এই মেধা,শ্রম এবং সাধনার ফলে আজ আপনারা পেশাগত আর্টিস হতে পেরেছেন।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,খাগড়াছড়ি জেলার সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি ও খুনৃসাই’র নির্বাহী পরিষদের সদস্য বোধিসত্ত্ব দেওয়ান প্রমুখ।

এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, “বঙ্গবন্ধু ও স্বপ্নের পাহাড়’র শীর্ষক আর্ট ক্যাম্পেইনের তিন জেলার আর্ট শিল্পীরা।