খাগড়াছড়ি জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন

প্রকাশিত: ১:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২২, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“৮০০কোটির পৃথিবী: সকলের সুযোগ, পছন্দ ও অধিকার নিশ্চিত করে প্রাণবন্ত ভবিষ্যৎ গড়ি” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস গত ১১জুলাই সরকারি ছুটি থাকায় ২১জুলাই সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়িতেও এ দিবসটি বর্ণিল আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালন করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার(২১জুলাই)সকালে খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট’র প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলাপরিষদ প্রাঙ্গনে এসে শেষ। পরে পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলায়তনে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের জেলা আহ্বায়ক রেম্রাচাই চৌধুরী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু।

এ দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভায় খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সহকারী পরিবার কল্যণ কর্মকর্তা সোহাগ ময় চাকমা’র সঞ্চালনায় বক্তারা জানান,১৯৯০ সাল থেকে প্রতিবছর ১১ জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করা হ‌লেও এবার ঈদুল আজহার ও সরকারি ছুটি থাকার কারণে সরকার এ দিবসটি ২১ জুলাই পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।

বক্তারা আরও জানান,বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের লক্ষ্য হ‌চ্ছে- পরিবার পরিকল্পনা, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় আবাসন খাতে জমির ব্যবহার বাড়ছে। যার ফ‌লে প্রতিবছর আমাদের দেশে এক শতাংশ ক‌রে আবাদি জমির পরিমাণ কম‌ছে। যার প্রভাব পড়ছে আমাদের কৃ‌ষিখাত তথা খাদ্য উৎপাদনে। তৈরি হচ্ছে বি‌ভিন্ন ধর‌নের সমস্যা।

জানা যায়,বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান ম‌তে ২০৩০ সালে সারা বি‌শ্বে জনসংখ্যা হবে ৮৫০ কোটি। যা ২০৫০ সালে গি‌য়ে দাঁড়াবে ৯৭০ কোটিতে। আর ২১০০ সালে তা বেড়ে ১০৯০ কোটি হবে। ক্রমবর্ধমান এই জনসংখ্যা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে স্বল্প উন্নত দেশগুলোর অবস্থা হবে ভয়াবহ।

এ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এরশাদ,পার্বত্য জেলাপরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বশিরুল হক ভূঞা,জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ এমরান হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।এছাড়াও খাগড়াছড়ি জেলার পরিবার পরিকল্পনার সহকারী পরিচালক ডা. সুভাষ বসু চাকমা,খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার সহকারী পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা শাহনাজ সুলতানা,খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রদান শিক্ষক ত্রিনা চাকমা,উদ্যোক্তা ও সমাজ কর্মী শাপলা দেবী ত্রিপুরা,মানিকছড়ি উপজেলার পরিবার কল্যাণ পারদর্শিকা স্বপ্না বড়ুয়াসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।