খাগড়াছড়ি স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রমের পাশে মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদ

প্রকাশিত: ৮:৪৯ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি জেলাস্থ কমলছড়ি ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড বেতছড়িমুখ এলাকায় কিশোর কুমার চাকমা’র একক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠি মানবিক প্রতিষ্ঠান “স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রম’র পাশে ” মানবিক সহায়তা ও বন্ধুত্ব বন্ধন উপলক্ষে আর্থিক সহায়তা সহযোগিতা করেছেন ধর্মীয়,সামাজিক ও মানবিক সংগঠন “মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদ”।এতে স্লোগান ছিল মানবতার জন্য আমরা”।

শুক্রবার (১৮ফেব্রুয়ারী)দুপুরের দিকে স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রমের প্রাঙ্গণে সহায়তা বিতরণ উপলক্ষে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় কলেন চাকমা’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু চাকমা এবং সভাপতিত্ব করেন পূর্ণ চন্দ্র চাকমা( কার্বারী)।এতে প্রতিপাদ্যের বিষয় ছিল “অসহায় মানুষের পাশে আপনিও হতে পারেন একজন মহৎ মানুষ।

এ সময় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক কিশোর কুমার চাকমা’র হাতে সম্মাননা স্বারক ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।পরে নগদ ৫০,০০০(পঞ্চাশ)হাজার, আশ্রমের শিক্ষার্থীদের মাঝে ৭টি স্কুল ব্যাগ,২রিম সাদা খাতা(সাদা কাগজ),৩ডজন কলম এবং বৃদ্ধ মহিলার মাঝে ১পিস থামি বিতরণ করা হয়।আলোচনা সভা ও বিতরণ শেষে মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদের নিজস্ব উদ্যোগে ১’শ মানুষের জন্য দুপুরের খাবারের আয়োজন করা হয়।

সভায় স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার চাকমা জানান,প্রতিবন্ধীদের সেবায় ও উন্নয়নে স্বপ্ন প্রতিবন্ধী সংগঠন ও আশ্রমটি ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।সংস্থার উদ্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে কম্পিউটার ও সেলাই মেশিন প্রশিক্ষন দেয়া হয়।বর্তমানে আশ্রমে ১২ জন প্রতিবন্ধী আবাসিকভাবে থেকে লেখাপড়া ও ট্টেনিং করছে।এসব সকল অর্থের যোগান দিচ্ছেন বিভিন্ন মানবিক দাতারা।

তিনি আরো বলেন,প্রতিবন্ধীদের অনেকেই দেশ,সমাজ এবং পরিবারের বোঝা মনে করে থাকে।অনেকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে থাকে।আমি মনে করি, সব পেয়েও তুচ্ছ কিছু না পাওয়ার জন্য অনেকেই দুঃখ করতে থাকেন। পরিশ্রমের পর পরীক্ষায় ফল খারাপ হলে, উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ না পেলে, চাকরি পেতে সমস্যা হলে কিংবা পরিবারের কোনও অশান্তি আমাদের কাছে সব না পাওয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য জিনিসের জন্য অনেকেই ভেঙে পড়ি। আবার, বহুজন তো না পাওয়ার জন্য আত্মহত্যা পথ বেছে নেন। সংবাদপত্র,টিভিতে প্রতিনিয়ত এমন বহু আত্মহত্যার খবর দেখতে পায় । কিন্তু, সত্যিই যারা কিছু পায়নি, জন্মেছেন অম্পূর্ণ হয়ে, তাদের কথা ভেবে দেখেছেন। প্রতিটা গ্রামে,প্রতিটা শহরে শহরে এমন মানুষ আছেন, যারা শারীরিক অসম্পূর্ণতা নিয়ে জন্ম নিয়েছেন। এমন কিছু প্রতিবন্ধকতা তাদের শরীরে আছে, যা কোনও দিনই ঠিক করা সম্ভব নয়। সব জেনেও সেই মানুষগুলো মনের জোরে লড়ে চলেছেন। পরিশেষে মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

অন্যন্য বক্তারা বলেন,কিশোর কুমার চাকমা’র উদ্যোগকে প্রথমে সাধুবাদ।দেশের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। যদিও এটা ঠিক যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যদি প্রয়োজনীয় সমর্থন পায় তবে তারা তাদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। প্রতিবন্ধীরা নানা ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে তাদের সম্পর্কে ভুল ধারণার কারণে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবন্ধীদের মতামত সাধারণত গ্রাহ্য করা হয় না এবং প্রায় ক্ষেত্রেই তাদের অধিকার লঙ্ঘন করা হয়, যেটা শেষ পর্যন্ত তাদেরকে উন্নয়নের মূল স্রোতধারা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

জনসংখ্যার বিশাল একটি অংশকে উন্নয়নের বাইরে রেখে কোনো দেশের পক্ষে এগিয়ে যাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। তাই উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে নিয়ে একটি সম্মিলিত সমাজ বিনির্মাণ করা অত্যাবশ্যক। জাতীয় উন্নয়ন তথা বৃহত্তর স্বার্থেই প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।
প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা গ্রহণের হার আগের চেয়ে বাড়লেও চাকরির বাজারে দেখা যায়, অনেকেই যোগ্যতা অনুযায়ী টিকে থাকতে পারছে না। সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে উপবৃত্তি দিচ্ছে, ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু সেবা গ্রহণের পথ এখনো সুগম হয়নি। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে অনেক হয়রানি ও দীর্ঘসূত্রতা। আর সেই দীর্ঘসূত্রতার প্রভাব পড়ে ভাতা পাওয়ার উপরও।
বক্তারা সবসময় স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রমের পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস ব্যক্ত করেন।

এ সময় মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদ উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক কিরণ ব্রত চাকমা,সভাপতি রাজ্য মনি চাকমা, মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদ সাবেক সভাপতি সুমন্ত দেওয়ান,স্বপ্ন প্রতিবন্ধী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা কিশোর কুমার চাকমা,ইউপি সদস্য অরিন্দম চাকমা,
জনপ্রতিনিধি বিমল তালুকদার,মৈত্রী আলো ঐক্য পরিষদের তথ্য-প্রচার সম্পাদক কাজল গিরি চাকমা,দৈনিক আজকাল’র প্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।