খাদ্যের জন্য লাইন; বিশ্বের অন্যতম ধনী শহরে!

প্রকাশিত: 11:33 AM, June 2, 2020

করোনাই বিশ্বের অধিকাংশ দেশের অর্থনীতির গ্রাফ নিচের দিকে নামছে। ধনী গরিব বাদ নেই কোন দেশই। অনেকে অর্থনীতিবিদই  ধারণা করছে  তীব্র খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হতে পারে পুরো বিশ্ব।

বিশ্বের অন্যতম ধনী শহরের নাম সুইজারল্যান্ডের জেনেভা। আর সেই শহরই এখন ভুগছে তীব্র অর্থসঙ্কটে। আর তাই খাবার সংগ্রহ করতে পড়ে যাচ্ছে এক মাইল লম্বা লাইন।

রাত ২টা থেকে লাইন শুরু হলে সকাল ৭টার মধ্যেই সেই লাইন এতটা দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। পরিবারের লোকজন না খেয়ে রয়েছেন যে। কেউ আবার বাচ্চা কোলে নিয়েই লাইনে দাঁড়িয়ে। কেউ বা হুইলচেয়ারে।

কিন্তু কেন বিশ্বের অন্যতম ধনী শহরের এই অবস্থা?‌ জানা গেছে, আসলে করোনা নয়, অর্থনৈতিক অবকাঠামো ভেঙে পড়াতেই জেনেভার এই হাল। করোনার কারণে পুরোপুরি স্তব্ধ পর্যটন শিল্প। মুখ থুবড়ে পড়েছে হোটেল ব্যবসাও। আর তাই এইসব কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশকেই গত মার্চ মাসের পর থেকে হারাতে হয়েছে চাকরি।

এছাড়া লোকের বাড়িতে কাজ করা অনেককেও কাজ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।

এছাড়া লোকের বাড়িতে কাজ করা অনেককেও কাজ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। ফলে হাতে কানাকড়িও নেই। এর ফলে পেট চালানোর জন্য ভরসা সেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং ব্যক্তিবিশেষের সাহায্যই। আর তাই তো কোথাও খাবার দেওয়ার কথা জানতে পারলেই প্রায় দু’‌মাইল হেঁটেও উপস্থিত হয়ে যাচ্ছেন অনেকে।

ঠিক যেমন সুখি সিনেনদোর্জ। করোনা মহামারির আগে একটি রেস্তরাঁয় সাফাইকর্মীর কাজ করতেন সুখি। মাইনে মাসে এক হাজার ছয়শ ডলার। কিন্তু করোনার কারণে রেস্তরাঁ বন্ধ করে দেন মালিক। আর তাই কাজও চলে যায় সুখির। তারপর থেকে অন্যের সাহায্যের ওপরেই ভরসা করে রয়েছেন সুখি। আর তাই রাত ১টায় বাড়ি থেকে দু’‌মাইল দূরের স্টেডিয়ামে এসে খাবার সংগ্রহের লাইনে দাঁড়াতেও পিছপা হন না তিনি।

জাতিসংঘ থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার সদর দপ্তর যেখানে, সেই জেনেভাই এখন অন্য এক লড়াইয়ে ব্যস্ত। করোনা নয়, বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর ব্যস্ত ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়তে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস