গাছবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পারফরমেন্স স্কোর কার্ড ব্যবহার,ফলাফল ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে এফসিডিও এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন সেতু-এমএলই প্রকল্পের উদ্যোগেপ্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে সামাজিক জবাবদিহিতা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ,স্কোর কার্ড ব্যবহার,ফলাফল মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।বুধবার(১৫ডিসেস্বর)সকালে খাগড়াছড়ি সদরস্থ গাছবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আর্থসামাজিক নিরীক্ষা দল ও গাছবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত স্কোর কার্ড ব্যবহার,ফলাফল মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।পর্যালোচনা সভায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পারফরমেন্স স্কোর কার্ড(আত্ম-মূল্যায়ণ)’র ৫০টি এসএমসি ও পিটিএ উপস্থাপন করা হয়।পারফরমেন্স স্কোর কার্ডটি ৩ ক্যাটাগরিতে তৈরি করা হয়েছিল। ১.Score from teachers,২.Score from SMC & PTA এবং Score from Parents এই ক্যাটাগরিতে পারফরমেন্স ষ্কোর কার্ড লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।এ পর্যালোচনা সভায় স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি অমিতাভ বৈষ্ণব’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম।সভায় জোনাকী ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন দোলনা বৈষ্ণব।

পর্যালোচনা সভায় অভিভাবকের পক্ষ থেকে তবেন ত্রিপুরা উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট প্রশ্ন পর্বে প্রশ্ন করেন। তিনি প্রশ্ন করেন,শিক্ষা অফিস থেকে বিদ্যালয়ে কি কি সুবিধা দেওয়া হয়?।সে প্রশ্নের উত্তরে উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে শিক্ষা অফিসার মো: রবিউল ইসলাম বলেন,কোন স্কুলে যদি ২০০জনের উপরে শিক্ষার্থী থাকে,তাহলে ৭০হাজার টাকা স্লিপ ফান্ড থেকে বরাদ্ধ আসে।যদি ২০০জনের নিচে হয়,তাহলে ৫০হাজার টাকা প্রতি বছর স্লিপ ফান্ড থেকে বরাদ্ধ দেওয়া হয়।প্রাক প্রাথমিকের শ্রেণীকক্ষ সৌন্দর্য বর্ধন এবং তাদের খেলাধুলা উপকরণ ক্রয়ের জন্য বছরে ৫হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়।আনুষঙ্গিকভাবে যে সুযোগ-সুবিধা আসে,সেগুলো মেইনলি দুটি।স্লিপ ফান্ড থেকে এবং প্রাথমিক ফান্ডে বরাদ্ধ আসে।আর স্কুলের রিপেয়ারিং এবং মেরামতের জন্য ১লক্ষ টাকা আবার কোন কোন ক্ষেত্রে ২লক্ষ টাকা প্রতি বছর বরাদ্ধ দেওয়া হয়।এই বরাদ্ধের টাকা দিয়ে স্কুলের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়।এছাড়াও আমরা প্রতি বছর পহেলা জানুয়ারি(১লা জানয়ারি) স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাঠ্যবই দেওয়া হয়।এই বছর স্ব-স্ব মাতৃভাষায় পাঠ্যবই পাবেন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা।উপবৃত্তির জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থী কম করে হলেও প্রতিমাসে ১০০টাকা করে পাই।তবে এই উপবৃত্তি পেতে হলে শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে ৮৫% স্কুলে উপস্থিত থাকতে হবে এবং পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে কমপক্ষে ৩৩% নাম্বার পেতে হবে।তবেই সেই শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেনা।

পরে অভিভাবকের পক্ষ থেকে চাঁদের বালা ত্রিপুরা বলেন,করোনা মহামারীর কারণে প্রায় ১৮মাস স্কুল বন্ধ থাকার পরে,আমাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা পড়ালেখার প্রতি একটু দুর্বল হয়ে যায়,সে সময় ইউনিসেফ স্কুলগুলোও বন্ধ ছিল।তাই আমাদের প্রাক প্রাথমিকের ছেলেমেয়েদের প্রতি একটু বেশি যত্নসহকারে পড়ালেখার প্রতি জোর দেয়ার জন্য স্কুলের সকল শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সভায় বিদ্যালয়ের পারফরমেন্স স্কোর কার্ড(আত্ম-মূল্যায়ন)’র উপস্থাপন করেন জাবারাং কল্যান সমিতির এমএলই কর্মসূচি সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।

মা দলের সদস্য সীমা ত্রিপুরা বলেন,আমাদের এই বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ব্যবস্থা না করার কারণে ক্লাস চলাকালীন সময়ে গাড়ী চলাচল করে থাকে।এতে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করার ক্ষেত্রে বিঘ্নতা ঘটে প্রতিনিয়ত।স্কুলের ফুলের বাগান হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন কারণে।যদি এই স্কুলের সীমানা প্রাচীর থাকতো,তাহলে গাড়ী চলাচল করতে পারতোনা ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের ক্লাসের সময় পড়ালেখায় সমস্যা হতোনা।মা দলের পক্ষ থেকে শিক্ষা অফিসারের নিকট স্কুলের সীমানা প্রাচীরের জন্য দাবি জানানো হয়।

পর্যালেচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার মো: রবিউল ইসলাম বলেন,আজকের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কোরকার্ড ব্যবহার,ফলাফল মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা সভা আয়োজন করার জন্য জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।তাদের এতো সুন্দর একটি সভাবেশ আয়োজনের আজ আমরা এখানে একত্র হতে পেরেছি।তিনি বলেন আজকে এই সভায় মায়েদের পক্ষ থেকে,অভিভাবকদের পক্ষ থেকে যে প্রশ্নগুলো এসেছে,এই প্রশ্নগুলো আপনারা করেছেন,এজন্য আমি নিজেকে ধন্য ও গর্বিত মনে করছি।একারণে আমরা বিদ্যালয় পর্যায়ে আপনাদের মতো মায়েদের অন্ততপক্ষে মুখ খুলাতে পেরেছি।আপনারা প্রশ্ন করতে শিখেছেন।আপনাদের অধিকার আদায়ের আপনারা কথা বলতে শিখেছেন।এই ধারাবাহিকতা আমরা চাই,আরো বেশি চাই।এই চাওয়ার জন্য আপনাদের আজকের এই আয়োজন।
তিনি আরো বলেন,এই বিদ্যালয়ে মালিক আপনারাই,আপনারাই এই বিদ্যালয়কে সবসময় সুন্দর ও সুস্থ্য রাখতে হবে।দেখভাল করতে হবে।এই বিদ্যালয়টি আপনাদেরই সম্পদ।এটি রক্ষণাবেক্ষণকারী করা আপনাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসবে উপস্থিত ছিলেন,গাছবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ক্যাটালিনা চাকমা,বিদ্যালয়ের মা দলের সভাপতি দোলনা বৈষ্ণব,ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গোপীনাথ বৈষ্ণব।এছাড়াও বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা,শিক্ষার্থীরা, মা দলের সদস্য ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।