গ্রাহকদের টাকা কবে দিবে,জানা নেই ইভ্যালির

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেল জানেন না, তিনি কবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারবেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এ কথা জানিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।গত শুক্রবার র‌্যাবের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার আল মঈন এই কথা বলেন।
র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, ‘রাসেল কনফিডেন্ট ছিলেন, তিনি আস্তে আস্তে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানকে ইভ্যালিতে সম্পৃক্ত করতে পারবেন, যারা ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করবেন। তিনি আশা করেছিলেন, তার গ্রাহক সংখ্যা বাড়বে। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় তিনি কবে গ্রাহকদের টাকা দিতে পারবেন, তাদের পণ্য দিতে পারবেন কি না সে বিষয়ে তিনি নিজেই সন্দিহান বলে আমাদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছেন ইভ্যালির দেনা প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। গ্রাহক সংখ্যা ৪৪ লাখ বলে দাবি তার। কমান্ডার মঈন আরও বলেন, তার ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল সাত থেকে ৪৫ দিনের ভেতরে তিনি তাদের পণ্য ফেরত দেবেন, যেটা ৬ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ওনি কালক্ষেপণ করতেন। ৬-৭ মাস পর তিনি পুরাতন কাস্টমারদের কাউকে কিছু টাকা বা পণ্য আংশিকভাবে দিতেন। নতুনদের ওনি দিতেন না। এভাবে ওনি কন্টিনিউ লোকসানের মাধ্যমে ওনি দায় বাড়িয়েছেন। ওনার প্রতিষ্ঠান লায়াবিটিলিজ মূলধন প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিণত হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, রাসেলের উদ্দেশ্য ছিল, ব্র্যান্ড ভ্যালু তৈরি করা। দক্ষিণ এশিয়ায় সিঙ্গেল কোম্পানি হিসেবে মানুষ শুধু ইভ্যালিকে চিনবে, এমনটাই চেয়েছেন রাসেল। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠানকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করার জন্য আগ্রহী হয়েছিল। কিন্তু তারা ভেতরে ঢুকে থেকে, দেনার পরিমাণ এত বেশি যে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ সত্যিই কঠিন।

র‍্যাবের এ কর্মকর্তা, ইভ্যালির সম্পদের তুলনার দেনার দায় যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন তাদের জবাব দিতে তিন সপ্তাহ সময় বেধে দেয় ওই কমিটি। কিন্তু সে কমিটির কাছে কোনো তথ্যপ্রমাণই হাজির করতে পারেননি মোহাম্মদ রাসেল। ইভ্যালির প্রচার-প্রচারণায় যে অর্থ খরচ হয়েছে, তার পুরোটাই গ্রাহকদের লগ্নিকৃত অর্থ থেকে খরচ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছেন রাসেল।

গত জুন মাস থেকে রাসেল ইভ্যালির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনও দিতে পারেননি। ইভ্যালিতে এখন ১ হাজার ৩০০ জন স্থায়ী কর্মী ও ৫০০ জন অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। কোম্পানির শুরুর দিকে প্রায় দুই হাজার স্টাফ কর্মরত ছিলেন এবং অস্থায়ীভাবে ১৭০০ লোক কর্মরত ছিলেন। সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে ১৩০০ স্টাফ ও ৫০০ অস্থায়ী কর্মচারীতে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে কর্মচারীদের প্রাথমিক বেতন ছিল ৫ কোটি টাকার কিছু বেশি, যা বর্তমানে দেড় কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। গত জুন থেকে এ পর্যন্ত কর্মীদের অনেককেই বেতন দিতে সক্ষম হননি রাসেল।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রাসেল এবং তার স্ত্রী শামীমা নাসরিন পদাধিকার বলে ৫ লাখ টাকা বেতন গ্রহণ করতেন। ইভ্যালির টাকায় কেনা অডি ও রেঞ্জ রোভার ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করতেন তারা। তাদের কোম্পানিতে ২৫-৩০টি গাড়ি রয়েছে। পৈতৃক সূত্রে সাভারে বেশকিছু জমি রয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৭-৮ কোটি টাকা।

সাইক্লোন অফার’, ‘আর্থকোয়াক অফার’, ‘ক্যাশব্যাক অফার’, ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’, ‘প্রায়োরিটি স্টোর অফার’ এর মাধ্যমে ইভ্যালি স্বল্পতম সময়ে গ্রাহক সংগ্রহ করেছে। ‘ঈদ অফার’, ‘বৈশাখী অফার’ এর পাশাপাশি ‘টি-টেন’, ‘টি-ফাইভ’, ‘ট্রি-থ্রি’সহ বিভিন্ন প্যাকেজও ঘোষণা করেছিল ইভ্যালি। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, এসব লোভনীয় অফার সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করেছিল। বিশাল অফার, বিশাল ছাড়, ক্যাশব্যাক অফার দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষদের প্রলুব্ধ করতেন। যার ফলে দ্রুততম সময়ে তার বিশাল কাস্টমার হয়ে যায়। তার (রাসেলের) ব্যবসায়িক স্ট্র্যাটেজি ছিল, তৈরিকারক বা গ্রাহকদের চেইন নেটওয়ার্কের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া।

ইভ্যালির দেনা হাজার কোটি টাকা থাকলেও গ্রেফতারকৃত রাসেল জানিয়েছেন তার একাউন্ট এ মাত্র ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। তিনি বলেন, ইভ্যালির বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি গেটওয়েতে ৩০-৩৫ কোটি গ্রাহকের টাকা আটক হয়ে আছে বলে রাসেল জানান।
এর আগে রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা হয়। আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির একজন গ্রাহক মামলাটি করেছেন।