ঘুরে দাঁড়াতে চায় বিমান খাত

প্রকাশিত: 4:58 PM, June 8, 2020

করোনাভাইরাসে বিপাকে পড়েছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ছাড়াও বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলা, নভোএয়ার ও রিজেন্ট-সব কটি প্রতিষ্ঠান এখন কঠিন সময় পার করছে। পর্যটন খাতেও দুরবস্থা চলছে। বেকার হয়ে গেছেন এ খাতের সঙ্গে কাজ করা অনেক মানুষ।

পর্যটন স্পটের সঙ্গে সম্পৃক্ত হোটেল-মোটেল সব শূন্য। একই অবস্থায় পাঁচ তারকামানের হোটেলও। বিদেশি পর্যটকের পাশাপাশি গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদেশিরা থাকতেন দেশের পাঁচ তারকা হোটেলে। হোটেলের অধিকাংশ কক্ষ খালি। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর সবারই একই দশা। ইতোমধ্যে পর্যটন খাতে সম্পৃক্ত প্রায় ১৫ হাজার কর্মী চাকরি হারানোর শঙ্কা রয়েছে।

পর্যটন খাতে করোনার প্রভাবে আর্থিক ক্ষতির হিসাব করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীর কাছে চিঠি দিয়েছে প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের (পাটা) গ্লোবাল এক্সিকিউটিভ বোর্ড মেম্বার ও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের চেয়ারম্যান শাহীদ হামিদ। তাদের চিঠিতে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক ব্যবসা হারানোর চিত্র তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে এভিয়েশন খাতে বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো ব্যবসা হারাবে ৬০০ কোটি টাকা এবং এ খাতে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে ২ হাজার জনের। ৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হারাবে ট্রাভেল এজেন্টরা, চাকরি হারাতে পারেন ১৫ হাজার।

দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বিদেশ থেকে অনেকে বাংলাদেশে আসেন এবং বিভিন্ন দেশে অনেকে বেড়াতে যান। করোনার কারণে এবার ভরা মৌসুমে ব্যবসায় ধস নেমেছে। অভ্যন্তরীণ পর্যটনও ব্যবসার একটা বড় অংশ। সেখানেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ট্যুর অপারেটররা একটি প্যাকেজের মধ্যে উড়োজাহাজের টিকিট, হোটেল মোটেল, গাইড, যাতায়াত, দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করে দেন। বুকিং বাতিল হওয়ায় সবাই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

গত ২১ মার্চ থেকে সরাসরি ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় বেবিচক। একমাত্র চীন ছাড়া আন্তর্জাতিক সব রুটে আড়াই মাস যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে গত ১ জুন থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ তিনটি রুটে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালু করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিজেদের কিছুটা সফল মনে করায় বাংলাদেশ থেকে এবার লন্ডন ও কাতার রুটে সরাসরি ফ্লাইট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।