ছাগল কান্ডে ভাইরাল ইউএনও বদলী

প্রকাশিত: ৮:০০ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

ছাগল কান্ডে ভাইরাল বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমীনকে অবশেষে বদলী করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের অরক্ষিত পার্কের ফুলগাছ খাওয়ার অপরাধে ছাগল আটক এবং ছাগল মালিকের অনুপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে ছাগল বিক্রি করে জরিমানার টাকা আদায় করা নিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত-সমালোচিত হন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিন। বুধবার তিনি তাঁর কার্যালয়ের স্টাফ মিটিংয়ে নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এন.আই.এল.জি বিভাগের উপ-পরিচালক পদে ন্যস্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন।

জানা গেছে, আদমদীঘি উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো এলাকার বাসিন্দা সাহারা বেগমের একটি ছাগল গত ১৭ মে ঘাস খেতে খেতে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরের অরক্ষিত পার্কের ফুল গাছের পাতা খায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিন ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তাঁর নিরাপত্তার দায়ীত্বে থাকা আনসার সদস্য দিয়ে আটক করেন। এরপর ভ্রাম্যমাণ বসিয়ে গণউপদ্রপ আইনে দুই হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু এসময় ছাগল মালিক না থাকায় ইউএনও নিজ তহবিল থেকে জরিমানার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। এরপর ইউএনও এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সীমা শারমিন; অনাদায়ী জরিমানা আদায় করতে ২২ মে ছাগলটি বিক্রি করে দেন। জরিমানার দুই হাজার টাকা বাদ দিয়ে অবশিষ্ট তিন হাজার টাকা নিয়ে আসতে ছাগল মালিক সাহারা বেগমকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু শুধু ছাগলের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা এবং বিক্রি করে দেওয়ার খবর পেয়ে সাহারা বেগম বেঁকে বসেন। এ অবস্থায় বিপাকে পড়ে যায় উপজেলা প্রশাসন এবং উপজেলা পরিষদ। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় ইউএনও’র পক্ষে-বিপক্ষে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম কর্মীদের ঢল নামে আদমদীঘিতে। জবাবদীহি করতে করতে অতিষ্ট হয়ে পড়েন ইউএনও সীমা শারমিন, উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান রাজু এবং ছাগল মালিক গৃহবধূ সাহারা বেগম। এমন অবস্থায় মধ্যস্থতা করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা চেয়ারম্যান।

ছাগল আটক ঘটনার ১০ দিন পর উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম খান রাজু’র মধ্যস্থতায় বৈঠকে ছাগল মালিক সাহারা বেগমকে ভুল স্বীকার করতে বাধ্য করা এবং রায় সংশোধনীর মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়। এরপর ছাগল মালিক সাহারা বেগমকে ছাগল ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিন বদলী সংক্রান্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিন্তু ছাগলের ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারনে শাস্তিমূলক বদলী নয় দাবী করে বলেন, এটাকে নিমমিত বদলী বলা যায়।