জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর দুই-ধারই যেন পৌরসভার ভাগাড়

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

কমিউনিটি সেন্টার এবং বিনোদন পার্কের প্রবেশ পথের পাশেই ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়। অবিশ্বাস্য মনে হলেও দৃশ্যমান চিত্রটি রয়েছে বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরে। শহরকে পরিচ্ছন্ন ও দূষনমুক্ত রাখার শ্লোগান ঝুলিয়ে দিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ নিজেই করে চলেছেন উল্টো কার্যক্রম।

সান্তাহার পৌর শহরের বিভিন্ন রাস্তায় চলার পথে সরেজমিন দেখা যায়, যেখানে সেখানে সড়ক পাশের জলাধার ভরাট করে ভাগাড় বানিয়ে ক্রমাগত শহর নোংরা ও পরিবেশ দূষন বেড়েই চলেছে। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে যেন কারো কোন মাথা ব্যথাই নেই।

জানা গেছে, ৩৩ বছর বয়সী সান্তাহার পৌরসভা “গ” শ্রেনি থেকে অনেক আগেই “ক” শ্রেনিতে উন্নীত হয়েছে। ফলে বেড়েছে আবাসিক, বাণিজ্যিকসহ নানা করের বোঝা। কিন্তু বাড়েনি ন্যুনতম পরিমাণ নাগরিক সুযোগ সুবিধা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার ময়লা-আবর্জনা একটা নির্দিষ্ট স্থানে বহনের জন্য স্থানীয় সরকার থেকে একটি ট্রাক বরাদ্দ করা হয়েছিল। ট্রাকটিকে বেশ কিছু দিন ময়লা-আবর্জনা পরিবহণ করতেও দেখা যায়। তবে কিছু দিন পর ট্রাকটিকে গ্যারেজে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ট্রাকটিকে মেরামত করে পণ্য পরিবহণের কাজ করতে দেখা যায়। ট্রাকটিকে বেশীর ভাগ সময়ই বর্তমানসহ তিন মেয়াদে থাকা মেয়রের অংশিদারিত্বে চলা প্লাস্টিক কারখানার পণ্য পরিবহন করতে দেখা যায়। আর ট্রাকের পরিবর্তে ময়লা-আবর্জনা বহন করতে দেখা যাচ্ছে ভ্যানে করে।

ময়লা-আবর্জনার ভ্যান চালকরা শহরের হেমতখালি, নাটোর বাইপাস সড়ক, মালশন সড়ক, খাদ্য শস্য সাইলো সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পাশের জলাধারসহ যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখছে। উন্মুক্ত স্থানে ফেলে রাখা এসব ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে এলাকার বাসিন্দা এবং সড়কে চলাচল করা পথচারি, বাইসাকেল, মোটর সাইকেল এবং ছোট ছোট যানবাহনের যাত্রীদের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে পৌরসভার প্যানেল মেয়র জার্জিস আলম রতন বলেন, সান্তাহার পৌরসভা মূলত রেলওয়ে জংশন ভিত্তিক একটি পৌর শহর। ফলে জায়গার বড়ই সংকট। স্থায়ী ভাগাড় নির্মাণে রেলওয়ের অপ্রয়োজনীয় এবং জলাবদ্ধ জমি স্থায়ী বরাদ্দ নেয়ার জন্য যোগাযোগ চলছে। স্থায়ী ভাগাড় নির্মান না হওয়া পর্যন্ত সকলকে এই কষ্ট একটু মেনে নিতে হবে।