ছাগলের পর এবার ছাই কান্ড !

জলমগ্ন আশ্রয়ন পল্লী ছাই দিয়ে তরিঘরি করে ভরাট

প্রকাশিত: ২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

বগুড়ার আদমদীঘিতে ছাগল কান্ড ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে এবার ছাই কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের জলমগ্ন আশ্রয়ন পল্লীর ব্যবহার অযোগ্য বিশাল আকারের আঙ্গিনা ভরাটে ব্যাপক হারে ফেলা হয়েছে চালকলের ছাই, চিটা ও তুষ।

এই আশ্রয়ন পল্লী নির্মানে স্থান নির্ধারণ থেকে শুরু করে পরবর্তী নানা ঘটনা প্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক লেখালেখির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ হুমায়ন কবির ওই আশ্রয়ন পল্লী পরিদর্শন করেন। তাঁর পরিদর্শনকে সামনে রেখে উপজেলা নির্মান কমিটি দুই দিন ধরে ছাই ফেলে ওই ভরাট কার্যক্রম চালায়। ছাই দিয়ে ভরাট করার পর উপরি ভাগে বিটবালু ছিটিয়ে দিয়ে ইট সোলিং দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারকে সন্তুষ্ট করতে করা এই কাজটি পল্লীর বাসিন্দাদের জন্য আরেক দুভোর্গ সৃষ্টি করবে বলে সচেতন মহলের অভিমত।

এদিকে উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইশবপুরে নির্মান করা পল্লীও জলমগ্ন। বৃষ্টি হলেই আঙ্গিনায় জমে হাঁটু পানি। সেই পানিতে নিমজ্জিত থাকে ল্যাট্রিন ও একটি মাত্র টিউবওয়েল। সে সময় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে বলে ওই পল্লীর বাসিন্দারা দাবী করেছেন। ১০ বাড়ি নিয়ে নির্মান করা এই পল্লীতে বসবাস করছেন আট পরিবার। দুই পরিবারের নামে বাড়ি দলিল করে দেওয়া হলেও তাঁরা স্বচ্ছল হবার কারনে এখানে আসেনি বলে জানিয়েছেন পল্লীতে বসবাসকারিরা।

জানা গেছে, মানবতার মা খ্যাতি অর্জন করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্প আশ্রয়ন প্রকল্প-২। এর প্রথম দফায় আদমদীঘি উপজেলার ৬ ইউনিয়নে বরাদ্দ মেলে ১০০টি বাড়ি। এর মধ্যে সান্তাহার ইউনিয়নে ১৪ এবং ছাতিয়ানগ্রামে ১০টি। দুই ও তিন ফসলী মাঠের নীচু জমিতে এই দুই পল্লীর বাড়ি নির্মান করা হয়েছে। ফলে বর্তমানে বসবাস করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

মোবাইল ফোনে উপজেলা আশ্রয়ন পল্লী নির্মান কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদমদীঘির মাটি খুব খারাপ, শুধু মাটি ফেললে কাদা হবে। সে কারনে ছাই ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সেটা আপদকালীন সময়ের জন্য। পরবর্তীতে আঙ্গিনাটি স্থায়ী ভাবে মজবুত করা এবং পল্লীর চার পাশে গাইডওয়াল নির্মান ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছাতিয়ানগ্রামের ইশবপুরের পল্লীর বাসিন্দাদের দুর্ভোগের ব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি দাবী করে তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে সেটির সমস্যাও সমাধান করে দেওয়া হবে।