জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ২৬) উপলক্ষে মানববন্ধন করেছে সনাক-টিআইবি,খাগড়াছড়ি

প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২১


খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে সচেতন নাগরিক কমিটি(সনাক) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ(টিআইবি)’র আয়োজনে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন (কপ২৬) উপলক্ষে মানববন্ধন করেছে।

রবিবার(৩১অক্টোবর)সকাল ১১টায় “দুর্নীতি
বিরোধী সামাজিক আন্দোলন”মূলনীতিকে সামনে রেখে জেলা শহরের শাপলা চত্বরে এ মানববন্ধন করা হয়।এতে প্রতিপাদ্যের বিষয় ছিল,”আর নয় কয়লাভিক্তিক জ্বালানি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চাই কার্যকর নীতি ও বিনিয়োগ করি।সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি সনাকের সভাপতি প্রফেসর বোধিস্বত্ব দেওয়ান।

এ এসময় সাংবাদিক ও সনাক সদস্য চিংমেপ্রু’ মারমা’র সঞ্চালনায় ধারণা পত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য চারু বিকাশ ত্রিপুরা।এতে বক্তব্য
রাখেন,খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জিতেন বড়ুয়া,জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ও সনাক সদস্য মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা,সনাক সদস্য অংসুই মারমা,সাংবাদিক আবু দাউদ, ,খাগড়াপু র মহিলা কল্যাণ সমিতির কোঅর্ডিনেটর মনিষা তালুকদা প্রমুখ।

এ মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,এসময় বক্তারা বলেন, ২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষর হলে চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। উন্নত দেশসমূহ প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নে ব্যর্থ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য কার্বন নিঃসরণকারী কয়লা আহরণই এর জন্য দায়ী। বাংলাদেশ প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জানান। কয়লাভিত্তিক জ্বালানি বন্ধেরও বক্তারা দাবি জানান।

এছাড়াও মানববন্ধনে কপ-২৬ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র কয়েকটি দাবি উপস্থাপন করেন বক্তারা,
১.জলবায়ু বিষয়ক নাতি নির্ধারণে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিদের অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
২.২০৫০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে শতভাগ জ্বালানি উৎপাদন উন্নত দেশগুলোকে পর্যাপ্ত জলবায়ু তহবিল,প্রযুক্তি হস্তান্তর ও কারিগরি সহায়তা প্রদানে সিভিএফ এর পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে দাবি উণ্থাপন করতে হবে।
৩.স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে উন্নত দেশগুলোকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অনুযায়ী প্রতি বছর ১০০বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল প্রদান করতে হবে।
৪.জিসিএফসহ জলবায়ু তহবিলে ঋণ নয়,অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করতে করতে হবে।
৫.দুর্যোগের ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবিলায় একটি ক্ষয়-ক্ষতি বিষয়ক আলাদা তহবিল গঠন করতে হবে।
৬.ক্ষয়ক্ষতির নির্ধারনএবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন স্বচ্ছতার সাথে প্রস্তুতের জন্য একটি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে এবং ঝুঁকি বিনিময়ে বীমার পরিবর্তে অনুদানভিক্তিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৭.ডিজিএফ এর স্বচ্ছতা,জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত করে যথাসময়ে ও দ্রুততার সাথে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশে অভিযোজন ও প্রশমন ৫০ঃ৫০ অনুপাত মেনে অর্থায়ন করতে হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সনাক-টিআইবি’র কোঅর্ডিনেটর আবদুর রহমান,ইয়েস দলনেতা প্রিয় মোহন ত্রিপুরা, সহ-দলনেতা (নারী)রামু ত্রিপুরা, ইয়েস ফ্রেন্ডস এবং ইয়েস সদস্য ও অন্যান্যরা।