জাবারাং’র উদ্যোগে কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ফলাফল পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা সিডা’র অর্থায়নে এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ’র কারিগরি সহায়তায় জেলার একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতি বহুল ব্যবহৃত কমিউনিটি স্কোর কার্ড টুলস ব্যবহার করার মাধ্যমে কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে ফলাফল পর্যালোচনা ও অর্ধ-বার্ষিক মতবিনিময় সভা আয়োজন করেন।রবিবার ১২জুন বিকালে খাগড়াছড়ি পৌরসভা মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভায় জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন চৌধুরী’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী।

মতবিনিময় সভায় জাবারাং কল্যাণ সমিতির প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বিনোদন ত্রিপুরা’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাবারাং সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।

সভায় অতিথির বক্তব্যে পৌর মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন,কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পরবর্তী করনীয় থাকলে তা আগামী কমিটির সভায় আলোচনা হবে বলে আশ্বাস দেন। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেটা সম্পন্ন হয়ে গেলে আশা করি কাংখিত সেবা দেয়া যাবে।

এ সময় জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা’র এ সংক্রান্ত একটি জরিপের ফলাফল উপস্থাপনার সময় জানান,৬জন কিশোর ও ১৫জন কিশোরীর উপস্থিতিতে মোট ২১জনের স্কোর প্রদানের গড় হিসাবে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের গড় মান ৭১ যেখানে সেবাগ্রহনকারীদের নিজেদের আত্ম-মূল্যায়নে এই গড় মান ৫৩। সেবা প্রদানকারী একা হওয়ায় ব্যস্ততা থাকতে হয় এবং যে কারণে সেবা প্রদানে সময় কম পান, সেবাদান কক্ষে ছেলে-মেয়েদের জন্য আলাদা বসার সুযোগ নেই, আলাদা টয়লেট ব্যবস্থা নেই বলেও স্কোর কার্ডে উল্লেখ করা হয়।

অন্যান্যের মধ্যে সভায় উম্মুক্ত আলোচনায় বক্তব্য রাখেন শিক্ষক প্রতিনিধি সুধেষ্ণা চাকমা ও রানু চাকমা। বক্তারা স্কুল পর্যায়ে অন্তত: মাসিক না হলেও ত্রৈমাসিক(৩মাস অন্তর অন্তর)র ভিত্তিতে একজন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা সেশন পরিচালনার ব্যবস্থা থাকলে ভালো হতো বলে মত দেন।

পরে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আজকের শিশুদের আগামী দিনের পিতা বলে আখ্যা দিয়ে বলেন আমরাও একসময় তোমাদের কাতারে ছিলাম। আজ না হয় এই প্রান্তে। তখন যদি আমাদের আমলে আজকের মতো নার্সিং ব্যবস্থা থাকতো তবে হয়তো আরও ভালো কোন অবস্থানে যেতে পারতাম। আজ তোমাদের জন্য সরকার নানা রকম উদ্যোগ নিচ্ছে। জেলায় বর্তমানে ৪১টি কিশোরী ক্লাব রয়েছে। নিজের ভবিষ্যত গড়তে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এমরান হোসেন চৌধুরী কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মান উন্নয়নে এ ধরণের কার্যকর টুলস ব্যবহারের মাধ্যমে এগিয়ে আসার জন্য জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। কিশোর-কিশোরী যারা সেবা নেয়ার পর নিজেদের জন্য সেবা কেন্দ্রের মান উন্নয়নে মতামত দিয়েছেন তাদেরও সাধুবাদ জানান। যে বিষয় একসময় সভা-সেমিনারে আলোচনাতো দূরে থাক, ঘরোয়া পরিবেশে আলোচনা করাও দুরুহ ছিলো। মা-বাবার সাথে সন্তানেরা এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন না, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকেরা পড়াতে সংকোচ বোধ করতেন সেই বিষয় নিয়েই আজ আমরা খোলামেলা আলোচনা করছি এটা আমাদের সরকারের আমাদের বিভাগের সাফল্য। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে। সেবা কেন্দ্রের মান উন্নয়নে ব্যবহৃত টুলস স্কোর কার্ডের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে সাধ্যমতো পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে কিশোর-কিশোরীদের আশ্বস্ত করেন।

জানা যায়..সেবা প্রদানকারীর সাথে সাক্ষাতের সুযোগ, সেবা প্রদানকারীর সেবা প্রদানে মনোযোগ ও গুরুত্ব, সেবা প্রদানকারীর সাথে সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার পরিবেশ ও গোপনীয়তা, সেবাদান ও অপেক্ষমান আলাদা কক্ষে বসার ব্যবস্থা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, আলো ও বাতাসের পর্যাপ্ততা, সেবা কেন্দ্রে ছেলে ও মেয়ে ভেদে স্বাস্থ্যসম্মত ও কার্যকর টয়লেটের ব্যবস্থা, সেবা প্রদানকারীর কাউন্সেলিং, সেবা কেন্দ্রের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, সেবা কেন্দ্রে তথ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ (আইইসি) সামগ্রীর পর্যাপ্ততাসহ ২৫টি বিষয়ের উপর সেবাগ্রহনকারীদের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি স্কোর ৪ ধরে একটি স্কোর কার্ড মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এই টুলস প্রয়োগ করা হয়।