জাবারাং’র উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য শিখন কেন্দ্র উদ্বোধন

প্রকাশিত: ১:০০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

দীঘিনালায় ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের বিকল্প আশ্রয়স্থল পূর্ব কাঠালতলী শিখন কেন্দ্র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(০৭ এপ্রিল)সকাল সাড়ে ১১ টায় দীঘিনালা উপজেলাধীন বোয়ালখালী ইউনিয়নের পূর্ব কাঠালতলী গ্রামের ৩০জন ঝরে পড়া শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিখন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পূর্ব কাঠালতলী শিখন কেন্দ্র উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা মুস্তফা’র সভাপতিত্বে শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: কাশেম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলোচনা সভায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরার সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা।প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: কাশেম বলেন,কাঠালতলী পাড়া বোয়ালখালী ইউনিয়ন এবং দীঘিনালা উপজেলার অতীত ইতিহাস তুলে ধরে বলেন,এ এলাকাটি পূর্বে চট্টগ্রাম বন্দর নগরীর ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র ছিল। অত্র এলাকা থেকে অনেকে সরকারের উচ্চ পদেও আসীন হয়েছেন। কিন্তু, দু:খজনক হলেও সত্য যে, গত দুইবছরে করোনা মহামারীর কারণে এবং গরীব অভিভাবকদের বহুমাত্রিক আর্থিক সংকটের কারণে বহু শিশু ঝরে পড়া শিক্ষার্থী পাওয়া গিয়েছে। এদের বিকল্প শিখন ব্যবস্থা করার জন্য যে শিখন কেন্দ্র আজ চালু হচ্ছে তার সদ্ব্যবহার করতে সকল অভিভাবকে অনুরোধ করেন। শিখন কেন্দ্রের ফ্যাসিলিটিজ নিয়ে কোন ঘাটতি থাকলে তাও পূরণের আশ্বাস প্রদান করেন।
লো
পরে অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা মুস্তফা বক্তব্যের শুরুতেই অভিভাবকদের সাথে খোলামেলা আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণ জানতে চান। তখন অভিভাবকদের পক্ষ হতে পাড়া কার্বারী যতীন বিকাশ কার্বারী এবং চন্দ্রমুখী চাকমা পাড়া হতে নিকটবর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যোগাযোগ দুর্গমতা আর নিজেদের আর্থিক সমস্যার কারণে দিনমজুরীতে ব্যস্ত থাকায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়নি বলে নিজেদের অপরাধবোধের কথা জানান। পরে নির্বাহী অফিসার এই সেকন্ড চান্স আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রামের আওতাধীন শিখন কেন্দ্রে সকল শিক্ষার্থীর অভিভাবককে নিয়মিত কেন্দ্রে পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং সকলের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। উপজেলার সকল ইউনিয়নে এ ধরণের মোট ৭০টি শিখন কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ আছে। তাই, এ উপজেলার কোন ঝরে পড়া শিক্ষার্থী যেন সুযোগবঞ্চিত না হয় সে লক্ষে বিশাল এই কর্মসূচি সফল করতে জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করা হয়।।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারি পরিচালক মো: আবু নাজের তাঁর বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের রূপকল্প ২০২১, ২০৪১, ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং এসডিজি-৪ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪)’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, পিইডিপি-৪ এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৮-১৪ বছর বয়সী বিদ্যালয় বহির্ভূত কিংবা ঝরে পড়া ১০ লক্ষ শিশুকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান এবং তাদেরকে শিক্ষার মূল ধারায় সংযুক্ত করার উদ্দেশ্যে সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন’কর্মমূচি বাস্তবায়ন প্রয়োজনীয়তা। অবহিতকরণ কর্মশালায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরতে করা হচ্ছে। এ বিশাল কর্মসূচির একটি অংশ দীঘিনালা উপজেলায় ৭০টি উপানুষ্ঠানিক শিখন কেন্দ্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২১০০ ঝরে পড়া শিক্ষার্থী জরীপের মাধ্যমে তাদেরকে শিক্ষার মূল ধারায় আনাই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য। এ উপজেলায় আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের দায়িত্ব জাবারাং কল্যাণ সমিতির। সরকারের কর্মসূচিকে সফল করতে বাস্তবায়নকারী সহযোগী সংস্থা জাবারাং কল্যাণ সমিতিকে সহযোগিতা করতে উপস্থিত সকল অংশীজনদের তিনি অনুরোধ করেন।

অতিথির বক্তব্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা বলেন শিক্ষার্থী এবং সকল শিশুদের জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলকভাবে করে নেয়ার জন্য উপস্থিত সকল অভিভাবককে অনুরোধ করেন এবং বর্তমানে যাদের এ সংক্রান্ত সমস্যা আছে তাদের শীঘ্র পরিষদে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেন। তিনি সকল ধরণের সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন।

আলোচনা সভা শেষে অতিথিদের মাধ্যমে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন বই তুলে দেয়া হয়। নতুন বই পেয়েই ঝরে পড়া শিক্ষার্থী নেনা চাকমা, শুভ চাকমা, প্রিয়ন্তি চাকমা, অলিন চাকমা ও তার বন্ধুদের অনেককেই আনন্দে খুশি হতে দেখা যায়। মুই পত্তেকদিন ইসকুলত এম (আমি প্রতিদিন স্কুলে আসবো)- নেনা চাকমা হাসিমুখে এই কথা অনর্গল বলে গেল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন পাড়া কার্বারী যতীন বিকাশ কার্বারী, বোয়ালখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ কুমার চৌধুরী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোনা রতন চাকমা, উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুস্মিতা ত্রিপুরা, উপজেলা রিসোর্স সেন্টার ইন্সট্রাক্টর মো: মাইন উদ্দিন প্রমুখ।