জিয়া দিয়ে শুরু, হাসিনা দিয়ে শেষ

প্রকাশিত: ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল(আদমদীঘি প্রতিনিধি)

১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল। সময় কাল ৪০ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে কয়েক দফায় শেষ হল সান্তাহার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ কাজ। বর্তমানে হাসপাতালটি চালুর অপেক্ষায়। হাতের নাগালে সহজে স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার আশায় অধীর হয়ে অপেক্ষা করছেন বগুড়ার সান্তাহার পৌর শহরসহ আশেপাশের গ্রামের মানুষজন।

জানা গেছে, ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান সরকার আমলে সান্তাহার শহরের রথবাড়ি এলাকায় ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ কাজের সূচনা করা হয়। নির্মাণ কাজ শুরু করার জন্য সে সময়ের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ শ্রমিকদের জন্য সেড নির্মাণ করা হয়। কিন্তু কাজ শুরুর পূর্বে জিয়াউর রহমান সরকারের পতন হয়। এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণ করার পর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ করে উপজেলা সৃষ্টি করেন। উপজেলায় হাসপাতাল থাকার কারনে সান্তাহারের এই হাসপাতাল নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতায় এলে, ফের ওই হাসপাতাল নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। ২০০৪ সালে প্রায় চার কোটি টাকার দরপত্রে নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি পায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাগ্নে তুহিন। ধীর গতিতে চলা নির্মাণ কাজ অর্ধ সমাপ্ত অবস্থায় ২০০৬ সালে সরকারের বিদায় লগ্নে তরিঘরি করে “রাজনৈতিক” উদ্বোধন করা হয়। কাগজে-কলমে হাসপাতালটি চালু দেখানো হয়। দেওয়া হয় চিকিৎসকসহ হাসপাতাল চলার প্রয়োজনীয় জনবল ও সামগ্রী। পরে পোস্টিং পাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ এসে অসমাপ্ত দেখে ফিরে যায়। সামগ্রী গুলো রাখা হয় আদমদীঘি উপজেলা হাসপাতালে।

এদিকে, কাজের ঠিকাদার প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে হবার কারনে কাজে ব্যয় করার চেয়ে প্রায় কোটি টাকার বেশি বিল তুলে নেয়। এমন অবস্থায় আসে ফকরুদ্দিন-ময়নুদ্দিনের তত্বাবধায়ক সরকার। এ সময় দুর্নীতি দমন বিভাগ বিষয়টি জানতে পেরে নাড়াচাড়া শুরু করে। খবর পেয়ে সে সময়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মামলা না করার শর্তে কাজের চেয়ে বেশি দেওয়া বিলের টাকার সমপরিমান (৭৬ লাখ) টাকার কাজ নিজ দায়ীত্বে করে দিতে বাধ্য হয়। এরপরও অসমাপ্ত অবস্থায় মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে হাসপাতাল। এলাকার মাদকসেবী ও বিক্রেতারা মাদক সেবন ও বিক্রির নিরাপদ আখড়া হিসাবে ব্যবহার করতে থাকে।

হাসপাতালটি উদ্বোধন এবং চালু করার জন্য যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতনরা সাফ বলে দেয় হাসপাতাল উদ্বোধন হয়েছে এবং চালু আছে। কিন্তু পরে যখন জানতে পারেন যে, হাসপাতাল উদ্বোধন করা এবং কাগজে-কলমে চালু দেখানো হলেও আদৌ সেটা ছিল সে সময়ের রাজনৈতিক ভাওতাবাজী। ফলে ২০২০ সালের শেষে ফের দরপত্র আহবান করে শেখ হাসিনা সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। প্রায় তিন কোটি টাকার চুক্তি মূল্যে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বাদে সব কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদার ফারুক হোসেন। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বগুড়া বিভাগের দায়ীত্ব পালনকারি সহকারী প্রকৌশলী নজরুলের ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে সংবাদকর্মী যোগাযোগ করলে তিঁনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিকাদারের নিকট থেকে হাসপাতালের দায়ীত্ব বুঝে নেয়া হবে। কবে নাগাদ চালু হবে জানতে চাইলে বলেন, জেলা সিভিল সার্জন গওসুল আজম ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্সসহ অন্য জনবল এবং অপারেশন থিয়েটারের সামগ্রী ছাড়াও প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী’র চাহিদা পত্র স্বাস্থ্য অধিপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে দিয়েছেন। এসব মিললেই বহু প্রতিক্ষিত হাসপাতালটি চালু হবে।