‘জীবিত’ সাত্তার ফকির ভোটার তালিকায় ‘মৃত’

প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ৩, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

জীবিত থেকেও ভোটার তালিকায় মৃত হয়ে গেছেন আব্দুস সাত্তার ফকির (৭৪)। এর ফলে তার নামে চালু থাকা বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন না, নিতে পারছেন না করোনা টিকা। অসহনীয় এমন বিড়ম্বনার শিকার আব্দুস সাত্তার ফকির আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের দুর্গাপুর গ্রামের মৃত লালচাঁন ফকিরের ছেলে।

জানা গেছে, আব্দুস সাত্তার ফকির একজন দিনমজুর। বয়স্ক ভাতার টাকা পেলে কিছুটা হলেও আর্থিক অভাব দূর হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায় তার বয়স্ক ভাতা। এ বিষয়ে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে খোঁজ নিতে যান। সেখানে তার নাম না থাকায় পরে খোঁজ নিতে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসে যান। ফিরে আসেন নিরাশ হয়ে। এরপর আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় ঘুরে যান নির্বাচন অফিসে। সেখানে আব্দুস সাত্তার ফকির জানতে পারেন, হালনাগাদ ভোটার তালিকায় তাঁকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। তবে জীবিত থেকেও কীভাবে ‘মৃত’ হলেন এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা তাকে কেউ দিতে পারেনি।

আব্দুস সাত্তার জানান, আমি একজন দিন মজুর অসহায় ব্যক্তি। সামান্য এক টুকরা জমিতে বাড়ি করে বসবাস করছি। প্রায় দুই বছর পূর্বে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের পিছনে ঘুরে ঘুরে বয়স্ক ভাতার কার্ড করেছি। ৪ দফা বয়স্ক ভাতার টাকাও পেয়েছি। কিন্তু বিপত্তি ঘটে প্রায় ৭ মাস আগে। হঠাৎ করে ভাতার টাকা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি ভেবেছিলেন হয়তো সরকারই ভাতা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি প্রশ্নের সুরে বলেন, তালিকায় নাম নাই তাই ‘ভোট না হয় না-ই দিলাম। কিন্তু করোনা টিকা না নিয়ে মরতে হবে আমার? করোনা টিকার নিবন্ধন করতে গিয়ে আব্দুস সাত্তার ফকির জানতে পারেন যে তিনি বেঁচে থেকেও মৃত। পরে নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিলে তাকে জানানো হয়, তিনি মৃত। শেষ পর্যন্ত তিনি নানা প্রমাণ দেওয়ার পর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ভুল স্বীকার করেন। পরে তাকে ভোটার সংশোধনীর আবেদন বলা করতে হয়েছে। এ বিষয়ে ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, জীবিত আব্দুস সাত্তারকে নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহকারী কর্তৃক মৃত দেখানোর ঘটনা আমার জানা নাই। তবে তার বয়স্ক ভাতা সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।