জুম্মার নামাজে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে  উস্কানিমূলক বয়ান দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, মে ১৬, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

বগুড়ার সান্তাহারের একটি মসজিদের ইমাম, মহান স্বাধীনতার স্থপতি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে উস্কানিমূলক বয়ান দিয়েছেন বলে অভিযোগ মিলেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরের দক্ষিণ মালশন জামে মসজিদের ইমাম রোকনুজ্জামান উগ্রপন্থী ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে জুম্মার নামাজের বয়ানে খুদবা সংক্রান্ত বয়ানের পরিবর্তে প্রায়ই রাজনৈতিক বয়ান দেয়ার অভিযোগ মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারের ঈদুল-উল-ফিতরের দিন জুম্মা নামাজের বয়ানে খুদবা সংক্রান্ত বয়ানের পরিবর্তে কাল্পনিক গল্পের অবতারণা করে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পরোক্ষ ভাবে উস্কানিমুলক বয়ান দিয়েছেন। মসজিদে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মুসল্লি সূত্রে মিলেছে এমন অভিযোগ।

অভিযোগকারীরা বলেন, ওই ইমাম হঠাৎ করে বলতে থাকেন, “মনে করেন যে, একজন বিদেশী মুসাফির আমাদের উত্তরবঙ্গে সফর করতে এসেছেন। এরপর ওই মুসাফির বাসে করে দক্ষিণবঙ্গে যাচ্ছেন। যাবার সময় এক বিশাল সেতু পার হবার সময় দোভাষীকে জিজ্ঞাসা করলেন এই সেতুর নাম কি, দোভাষী বললেন বঙ্গবন্ধু সেতু। এরপর তারা যায় ঢাকার ধানমন্ডিতে। বিদেশী জানতে চান ধানমন্ডি কিসের জন্য বিখ্যাত, দোভাষী জানায় এখানে আছে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি। এরপর যায় খেলা দেখার জন্য। মাঠ দেখে বিদেশী জানতে চায়, এই মাঠের নাম কি, দোভাষীর উত্তর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। খেলার এক সময় দুই দলের সমর্থকের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে, ইটপাটকেলে আহত হয় বিদেশী। তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে, সুস্থ্য হয়ে তিনি জানতে চান হাসপাতালের নাম কি, দোভাষী জানায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এটা শোনার পর বিদেশী বললেন তারাতারি আমাকে আমার দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন, নইলে আমি মারা গেলে তোমাদের বঙ্গবন্ধু গোরস্থানে নিয়ে যাবে, আমি ওখানে যেতে চাই না। এই বলে তিনি বয়ান শেষ করেন। এসময় গ্রামের সাধারণ মুসল্লিরা হাসতে থাকেন।

কিন্তু ইমাম তার এই বয়ান দিয়ে কী বোঝাতে চেয়েছেন তা সচেতন অনেকের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ওই ইমাম গণমাধ্যম কর্মীদের নিকট ওই গল্প বলার কথা স্বীকার করে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও বিশাল অবদানের বিষয় বলেছেন বলে দাবী করেন।