ঢাকা, ২২শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ১৩ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

টিকটক-লাইকির নামে অশ্লীলতা সৃষ্টিকারী ৪০ গ্রুপ শনাক্ত; দ্রুত শুরু হচ্ছে অভিযান


প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৯, ২০২১

দেশে টিকটিক ও লাইকিতে চলছে বিনোদনের নামে নানা অশ্লীলতা। এমনকি বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচারের মতো ঘটনা ঘটছে। বৃদ্ধি পাচ্ছে যৌন নির্যাতন। অশ্লীল ভিডিও তৈরিতে জড়িত লাইকি ও টিকটকার সিন্ডিকেটের এরূপ ৪০টি গ্রুপের সন্ধান পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান।

লাইকি ও টিকটকের এসব অশ্লীল ভিডিও দেখে তরুণ-তরুণীসহ শিশুরা বিপথে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ওই সব টিকটক ও লাইকি নির্মাণকারী এবং এসব প্ল্যাটফর্মে অভিনয়কারীদের শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, তরুণ-তরুণীরা মিলে অশ্লীল ও উদ্ভট ভঙ্গিমার দৃশ্য ধারণ করে বানানো হচ্ছে টিকটক-লাইকির কনটেন্ট। পরে অ্যাপ ব্যবহার করে এসব প্রচার করা হচ্ছে। এসব লাইকি ও টিকটক তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রুপের একজন অ্যাডমিন থাকে। সেই অ্যাডমিনের প্রতিটি গ্রুপে ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ-তরুণী কাজ করে। এ পর্যন্ত ৪০টি গ্রুপের সন্ধান পাওয়া গেছে। আর তাতে পাঁচ শতাধিক তরুণ-তরুণী জড়িত।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, টিকটক-লাইকিসহ বিতর্কিত অ্যাপগুলো নিষিদ্ধ করার সময় এসেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক ও আইসিটি বিভাগের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টিকটক নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। টিকটক অ্যাপ বন্ধের কাজটা করবে আইসিটি মন্ত্রণালয়। তবে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে তা বন্ধ করতে কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে যাদের চিহ্নিত করা গেছে, তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, লাইকি, টিকটক, ইমো, মাইস্পেস, ফেসবুক, ইউটিউব, স্ট্রিমকার, হাইফাইভ, বাদু ইত্যাদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী ধরনের অপরাধ হচ্ছে, তা নজরদারি করা হচ্ছে।

এক কর্মকর্তা বলেন, টিকটক অ্যাপ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে টিকটক হৃদয়, অপু, সজীব, নয়ন বন্ড, সুজন ফাইটারের মতো অপরাধীরা। এসব কিশোর গ্যাং যৌন হয়রানি, যৌন নিপীড়ন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই-রাহাজানি থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ডের মতো বড় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। অনলাইনভিত্তিক এসব গ্যাং কালচার রোধে সাইবার নজরদারি করা হচ্ছে। পৃথিবীর কোন কোন দেশে টিকটক-লাইকির মতো অ্যাপ বন্ধ করেছে এবং করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠক রয়েছে। সেই বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করা হবে।