ঢাকা থেকে ফ্লাইট চালাতে বেবিচককে মালিন্দো এয়ারওয়েজের চিঠি

প্রকাশিত: 10:09 PM, June 21, 2020

ঢাকা-কুয়ালালামপুর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় মালিন্দো এয়ারওয়েজ। এজন্য তারা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) চিঠিও দিয়েছে। এ ব্যাপারে সার্বিক বিষয় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বেবিচক।

মালিন্দোর চিঠি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বেবিচক সূত্র। ওই সূত্র জানায়, মালিন্দো এয়ার তাদের চিঠিতে ঢাকা রুটে ফ্লাইট চালানোর ইচ্ছা পোষণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, অনুমতি পেলে তারা ১ জুলাই থেকেই ফ্লাইট চলাচল শুরু করার জন্য প্রস্তুত। সার্বিক বিষয় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাদের অনুমতি দেয়া-না দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে মালিন্দো এয়ারের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) গোলাম মোহাম্মদ সাকলায়েন সেলিম বলেন, ‘অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মতো মালিন্দো এয়ারও ১ জুলাই থেকে কুয়ালালামপুর-ঢাকা কমার্শিয়াল ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সিভিল এভিয়েশনে আবেদন করেছে। তাদের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে ফ্লাইট পরিচালনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের আবেদন বিবেচনা করছি। সে দেশের ট্রাভেল রেস্ট্রিকশনসহ সার্বিক বিষয়ে রিভিউ করে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

মালিন্দো এয়ার কুয়ালালামপুর হয়ে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়াসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি যাত্রী বহন করে আসছে।

এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এমিরেটস, এয়ার অ্যারাবিয়া, ফ্লাই দুবাই এবং তুরস্কের তার্কিশ এয়ারলাইন্স ঢাকা থেকে ফ্লাইট পরিচালনার আবেদন করে। এর মধ্যে এমিরেটসকে ২১ জুন থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে বেবিচক। বাকিদের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, তার্কিশ এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য মৌখিকভাবে আশ্বস্ত করা হয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বাকিদের বিষয় এখনো রিভিউ করা হচ্ছে। এছাড়া ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়ার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে যে কোনো দেশের এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয়ার আগে বাংলাদেশের ও বাংলাদেশের যাত্রীদের বেনিফিট অগ্রাধিকার পাবে।

ফ্লাইট চালুর বিষয়ে তার্কিশ এয়ারলাইন্স বাংলাদেশের সেলস অ্যান্ড ট্রাফিক অফিসার এজাজ কাদরি বলেন, ‘গত ১২ জুন থেকে তুরস্কে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে দেশটির সিভিল এভিয়েশন। আমরা ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি চেয়ে চিঠি দিয়েছি। যদি সব পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে তাহলে অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে তার্কিশ এয়ার।’

তার্কিশ এয়ারে ইস্তাম্বুল ছাড়াও ট্রানজিট ফ্লাইটে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন বাংলাদেশিরা।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২১ মার্চ থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বেবিচক। দীর্ঘ ৬৯ দিন বন্ধ থাকার পর গত ১ জুন থেকে অভ্যন্তরীণ আকাশপথে চলছে যাত্রীবাহী বিমান। আর ১৬ জুন ঢাকা থেকে লন্ডন রুটে এবং কাতার রুটে ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দেয় বেবিচক। যদিও কাতারে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই যাত্রীরা শুধু ট্রানজিট হিসেবে দোহা বিমানবন্দর ব্যবহার করে অন্যান্য দেশে যেতে পারছেন। সব শেষ আজ ২১ জুন থেকে এমিরেটসকে ফ্লাইট চলাচল করার অনুমতি দেয় বেবিচক।