তালা-পাটকেলঘাটায় নৌ- শিল্পের ব্যাস্ততা তারপরেও হতাশা প্রকাশ

Jahid Jahid

Hasan

প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২১

বি এম বাবলুর রহমান|সাতক্ষীরা|
গভীর সঙ্কটে থাকলেও তালা- পাটকেলঘাটার নৌ-শিল্পীরা কাজ করে সময় পার করছেন ।বারো মাস চলে নৌকা গড়ার কাজ। মুনাফার পরিমাণ কম হলেও ধরে রেখেছে পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এই নৌ- শিল্প।

নদীমাতৃক এই দেশে এক সময় স্বল্প খরচের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিলো নৌ – পথ। আধুনিক এই পৃথিবীতে অতি দ্রুত বিলুপ্ত হয়ে গেল নৌপথ। প্রাচীন তম এই নৌপথ টা ইতিহাস হয়ে গেল। দেশের উপকূলীয় এলাকা সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নৌ- শিল্প ঠিকে আছে শুধু মৎস্য ঘেরে নৌকা ব্যাবহারের কারনে। প্রতি বছর দুবলার চর ( বঙ্গপোসাগরে) মাছ ধরতে যাওয়ার অন্যতম উপকরণ নৌকা থাকার কারনে তালা উপজেলার সকল সম্প্রদয় এর লোকেরা মাছ শিকারের যাওয়াকে কেন্দ্র করে সারা বছর নৌকা তৈরির কাজ করতে হয় কারিগরদের।

সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকায় সাতক্ষীরা- খুলনা মহাসড়কের কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে নৌকা গড়ার কারখানা। আর সেখানেই মোঃ রফিকুল ইসলাম ও আনোয়ার হোসেন সহ কয়েকজন নৌকা তৈরিতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকল খরচ মিটিয়ে জমা করছেন ভালো মুনাফা।তারা একদিকে টিকিয়ে রেখেছেন এই শিল্পকে অন্যদিকে নিজেরাই হচ্ছে লাভবান।

সরেজমিনে দেখা গেছে সাতক্ষীরা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা ও খুলনা বিভাগের, জেলার ঘের ব্যাবসায়ীরা ক্রয় করেন এই নৌকা। এই শিল্পের কদর সবসময় অন্যতম থাকায় নৌকা ব্যাবহারের প্রয়োজনের তাগিদে দ্বারস্থ হতে হয় নৌকা কারিগরদের প্রতি। অন্যতম এই শিল্প কারখানার মালিকদের লাভ হয় ভালো। নৌকা প্রতি কয়েক হাজার টাকা।
সকল তৈরিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার হলেও নৌকা তৈরি করতে এখনো তেমন আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি।নৌকা তৈরিতে ধাতু দ্রব্য পেরেক, তারকাঁটা,জলুয় ব্যাবহার হয়ে থাকে। অন্যদিকে নৌকা তৈরিতে সাধারণত খৈ, কড়ায় ও চম্বল গাছের কাঠের প্রয়োজন হয়। তাছাড়া কিছু কিছু ক্ষেত্রে মেহগনি গাছের কাঠ ব্যাবহার করেন। সাধারণত একদিনে একটি নৌকা তৈরি করতে তিন জন শ্রমিক লাগে। ১২ হাত লম্বা একটি নৌকা তৈরি করতে তিন জন শ্রমিক এর মুজুরী প্রায় ২২শ টাকা। এবং কাঠ বাবদ খরচ হয় চার হাজার টাকা,নানা বিধি আনুষঙ্গিক উপকরণ বাদে খরচ হয় তিন হাজার টাকা। নয় থেকে দশ হাজার টাকা ব্যায়ে ১২ হাত একটা নৌকা তৈরি করে বিক্রি হয় ১২-১৪ হাজার টাকা। পাটকেলঘাটা নৌকা তৈরি শিল্পের কারিগররা নৌকা প্রতি লাভ করেন এক থেকে দেড় হাজার টাকা। বিভিন্ন মাপের নৌকা তৈরি করেন এই কারিগররা তাতে লাভের পরিমাণ যথেষ্ট।

ঝিকরগাছা যশোর হতে নৌকা ক্রয় করতে আসা অরুন সরকার জানান তিনি ১২ হাত লম্বা একটি নৌকা ১৩ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। তার মৎস্য ঘেরে মাছের খাদ্য দেওয়া ও শেউলা পরিষ্কার করার জন্য নৌকা ক্রয় করলেন। যশোর জেলার অধিকাংশ মানুষ এখান থেকে নৌকা ক্রয় করেন বলে তিনি জানান।
পাটকেলঘাটা নৌকা তৈরির কারখানা মালিক মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, তার বাবা এই নৌ- শিল্পের কাজ শুরু করেন। পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত এই কারখানায় তিনি দুই হাজার সাল থেকে এই নৌ – শিল্পের কাজ করেন। বারো মাস নৌকা তৈরি কাজ হয়।তার কারখানায় ১২ জন শ্রমিক কাজ করেন। প্রতিদিন ৪ -৫ টা করে নৌকা তার কারখানায় তৈরি হয়। দিনশেষে ৭-৮ হাজার টাকা করে মুনাফা অর্জন করেন।মাস শেষে ২ লক্ষের বেশি টাকা মুনাফা অর্জন করেন। পার্শ্ববর্তী অন্য নৌকা তৈরির কারখানা মালিক মোঃ রফিকুল ইসলাম এর কারখানায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি এক যুগের বেশি সময় ধরে এই নৌ- শিল্প ধরে রেখেছেন। এখান থেকে তিনি প্রতি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা মুনাফা অর্জন করেন।তিনি আরো জানান বর্তমানে নৌ- যোগাযোগ ব্যাবস্থা না থাকায়, নৌকার চাহিদা অনেক কম। এখন এই নৌ- শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তার বিকল্প নেই।