তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার কর্তৃক বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

“অল্প সময়ে,স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন’র অর্থায়নে পরিচালিত ইউএনডিপি’র ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র বাস্তবায়নে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের পথনাটক প্রদর্শন,নৃত্য ও গান পরিবেশন এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(০৭এপ্রিল)বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ইউনিয়ন জেতবন বৌদ্ধ বিহার প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক নাটক,গান,কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহমুদা বেগম (লাকি)।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র কমিউনিটি মোবিলাইজার( Community Mobilizer) চিংথোয়াইয়ো মারমা।

এ সময় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য মাহমুদা বেগম (লাকি) বলেন,গ্রাম আদালত কার্যকর ভুমিকা রাখতে পারলে আদালতের ওপর চাপ কমে যাবে বলে মন্তব করেছেন বক্তারা। সে জন্যই সরকার গ্রাম আদালতকে যুগােপযােগী, জনবান্ধব ও অধিকতর কার্যকরী করার লক্ষ্যে ‘গ্রাম আদালত আইন-২০০৬’ সংশােধনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি ।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামগুলোকে আমরা শহরের সুবিধা দিতে পারি এবং গ্রামের মধ্যে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পারি। আমরা যাতে পুলিশের ওপর নির্ভরশীল না হই, আদালতের ওপর নির্ভরশীল না হই। নিজেদের সমস্যা যেন নিজেরা সমাধান বরতে পারি। সেটা করতে পারলে গ্রামেগঞ্জে শান্তি বিরাজ করবে।

এ সময় অন্যান্য বক্তারা বলেন,এ সম্পর্কিত আইনি কাঠামাে সংস্কার এবং সংশােধনীর ক্ষেত্রসমূহ চূড়ান্তকরণের উদ্দেশ্যে ইউরােপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ইউএনডিপি’র কারিগরি সহায়তায় এই সুন্দর একটি সচেতনতামূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থাকে সাধুবাদ জানান ।তারা বলেন,বাংলাদেশে বর্তমানে ৭০-৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। শহর ও গ্রাম উভয় স্থানের মানুষের জন্য সরকারে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আমাদের অবশ্যই বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে তাদের যথাযথ সুবিধা দিতে হবে। গ্রাম আদালত বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি দারুণ বিষয়। কারণ অনেক মানুষ ভুল বোঝাবুঝির কারণে আদালতের দ্বারস্থ হন, ফলে সেখানেও চাপ বেড়ে যায়। খুব ছোট ছোট বিষয় নিয়েও মামলা হচ্ছে।আমরা মনে করি আমরা গ্রাম আদালতকে কার্যকর করতে পারলে আদালতের ওপর চাপ অনেকাংশে কমে যাবে। এরফলে মানুষই সুবিধা পাবে, তাদের সময়- অর্থ দুটোই বেঁচে যাবে।

উল্লেখ যে, গ্রাম আদালত আইন ২০০৬ সালে জারির পর ২০১৩ সালে প্রথম সংশােধনী এবং ২০১৬ সালে বিধিমালা জারি করা হয়। কিন্তু নানাবিধ প্রতিকূলতার কারণে গ্রাম আদালত যথাযথভাবে কার্যকরী করা সম্ভব হয়নি। গ্রাম আদালতের বিচারব্যবস্থায় মানবাধিকারের মূলনীতিগুলোকে প্রাধান্য দেয়া হয়। প্রচলিত বিচারব্যবস্থায় দোষীকে অপরাধী বলা হয় কিন্তু গ্রাম আদালতে তাকে বলা হয় প্রতিবাদী। গ্রাম আদালতের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলাে- এমনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাতে বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সহাবস্থান, সহমর্মিতা, ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি ও সমঝােতা সৃষ্টি হয়, যাতে ভবিষ্যতে তাদের মধ্যে পুনরায় বিরােধ সৃষ্টি হওয়ার সুযােগ বন্ধ হয়ে যায় এবং পুনর্মিলন ঘটে।

আলোচনা সভা শেষে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি পথনাটক প্রদর্শন এবং পরে নাচ,গান, কবিতা আবৃত্তির মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।