তেল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন সালাম

প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, মে ৮, ২০২১

আহসান হাবিব শিমুল (আদমদীঘি প্রতিনিধি)

ড্রামের ভেতরের গায়ে জমে থাকা পামওয়েল তেল কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন এক সময়ে দুরন্ত গতিতে ছুটে চলা ট্রাক চালক আব্দুস সালাম (৫০)। এভাবে তার প্রতিদিনের আয় কমপক্ষে ৬শ’ টাকা। এই আয়েই বেশ খেয়ে পড়ে চলে তার সংসার। সালামের বাড়ি নওগাঁ শহরে। তিনি তার নাম ও আয় জানালেও কোন পাড়া বা মহল্লায় বাড়ি তা জানাতে চাননি, লোক-লজ্জার কারনে।

সান্তাহার-বগুড়া-নওগাঁ বাইপাশ সড়ক। এই আঞ্চলিক মহাসড়কের বশিপুর এলাকায় সড়কের পাশে সারি সারি প্লাস্টিকের ড্রাম চিৎ করে রাখা হয়েছে।  সংখ্যায় প্রায় শ’খানেক। এসব ড্রাম যাবে ঢাকা ও চট্রগ্রামের পামওয়েল পরিশোধনাগারে। খালি এসব ড্রাম রাখার এমন চিত্রের দেখা মেলে প্রতিদিন সকালে। সন্ধ্যার আগেই আবার ড্রামশুন্য হয়ে পড়ে ওই স্থান। দুপুর বা বিকালের দিকে ঢাকা ও চট্রগ্রাম অভিমুখী চাল, আলুসহ বিভিন্ন কাঁচা পণ্যবাহী ট্রাকের উপর ওভারলোড হয়ে চলে যায় গন্তব্যে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ওই পথ দিয়ে যাবার সময় চোখে পড়ে প্রতিদিনকার চিত্রটি। প্রতিটি ড্রামের মুখের সিপি বা কর্ক খোলা। ছিপছিপে গড়নের এক ব্যক্তি হাতখানেক লম্বা কাঠির মাথায় স্পঞ্জ বেঁধে ড্রামগুলোর মূখ থেকে তেল তুলে চিপে চিপে একটি পাত্রে সংগ্রহ করছেন। তার সাথে আলাপ করে জানা গেল ওই সব তথ্য। তিনি জানালেন, সান্তাহার ও নওগাঁ শহরের ব্যবসায়ীরা ড্রাম থেকে তেল ঢেলে নেয়ার পর ফের তেল আনার জন্য ড্রামগুলো বাইপাস সড়কে পাঠায়। এখান থেকে পণ্য বোঝাই ট্রাকের উপর ওভারলোড করে নিয়ে যায় ট্রাক চালকরা। এতে করে উভয়ে লাভবান হয়। অর্থাৎ ব্যবসায়ী কম মূল্যে ড্রাম পাঠাতে পারে এবং ট্রাকের চালক-হেলপার বাড়তি কিছু টাকা আয় করে। সাথে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশেরও কিছু উপরি (মজার ছলে উক্তিটি করেন) মেলে। শুধু যে খালি ড্রাম ওভার লোড তা কিন্তু নয়, পণ্যবাহী ট্রাকে ওভার লোড হয় পাতি ও প্লাস্টিক মাদুরের গাট্টিসহ বিভিন্ন কাঁচা পণ্যের বস্তা ও গাট্টি। প্রতিদিন বাইপাস সড়কের পশ্চিম ঢাকা রোড এবং বশিপুর বাইপাস থেকে কমপক্ষে শ’খানেক ট্রাক ওভার লোড হয়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়।

সাবেক ট্রাক চালক তেল কুড়ানি সালাম জানান, বছর তিনেক আগেও সে ট্রাক চালাত। মেয়াদ শেষে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে পড়েন নানা আইনি প্যাঁচে, সাথে সামর্থ্যের বাহিরে ঘুষের দাবী। রাগ করে লাইসেন্স নবায়ন করেননি, বাদ দিয়েছেন ট্রাক চালানো। পরে চালক ও দালাল সমিতির সাথে কথা বলে বর্তমানে তেল কুড়ানির এই ঘাম ঝড়ানো কাজ করছেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ কেজি পামওয়েল তেল সংগ্রহ হয়। বিক্রি করেন ৮০ টাকা কেজি দরে। কারা কেনেন জানতে চাইলে বলেন, পরিচিত অনেকে সিরিয়াল দিয়ে রাখেন। খালি ড্রাম থেকে তেল মেলার এমন ধারনা তিনি কি করে পেলেন জানতে চাইলে বলেন, পামওয়েল তেল একটুতে ঠান্ডা হয়ে যায়, জমে থাকে ড্রামের ভেতরের গায়ে। খালি ড্রামগুলো রোদে রাখলে তাপে গলে যায়। এটাই এখন আব্দুস সালামের আয়-রোজগারের প্রধান মাধ্যম।