দরিদ্র ও মেধাবী কোটায় মেডিকেল কলেজে ভর্তি

প্রকাশিত: ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ, জুন ১১, ২০২২

৫% দরিদ্র ও মেধাবী কোটা কি?

প্রত্যেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫% স্টুডেন্ট সরকারি মেডিকেল কলেজের সমান খরচে পড়ার সুযোগ।
এই সুযোগ প্রত্যেক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ দিয়ে থাকে।সরকারি নিদর্শনা এটা।

যোগ্যতা?

জাতীয় মেডিকেল ও ডেন্টাল এডমিশন টেস্টে পাশ কৃত সকল স্টুডেন্ট এর জন্য পছন্দের মেডিকেল কলেজে আবেদন করতে পারবে।

বাছাই কিভাবে করে?

আপনি যে মেডিকেল এ ভর্তি হতে চান সে মেডিকেল কলেজ থেকে এই কোটার জন্য আলাদা ফরম দেয়া হবে।ফরম ফিলআপ করে সাথে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ দিলে একটা নির্দিষ্ট তারিখে আপনাকে ভাইভার জন্য ডাকা হবে অভিভাবক সহ।
সরকারি বেসরকারি সাধারণ সকল ভর্তি শেষে সাধারণত এই ভাইভা পরীক্ষা হয়

ভাইভাতে সাধারণত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন করা হয় না।আপনি এই কোটার উপযুক্ত কিনা তা দেখবে।মানে স্কোর এবং আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করবে।সাথে কাগজ পত্র চেক করবে।
আপনি উপযুক্ত বিবেচিত হলে ঐ দিন রাতে বা দু একদিনের মধ্যে ভর্তির তারিখ জানিয়ে দিবে।

কি কি কাগজ লাগে?
সকল পরীক্ষার সার্টিফিকেট, ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট সীট,এলাকার চেয়ারম্যান বা ওয়ার্ড কাউন্সিলর কতৃক দারিদ্র্যতার সার্টিফিকেট, নোটারী পাবলিকের কোন এডভোকেট কতৃক দারিদ্র্যতার এভিডেভিড পেপার।
এগুলোর নমুনা কপি নিচে যুক্ত করা হবে ভর্তি পরীক্ষার পর।
তাদের দেখালেই করে এমন করে কাগজ তৈরি করে দিবে।

কত নম্বর পেলে সিউর সুযোগ পাব?
এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না।পাশ করলেই ফরম তুলতে পারবেন।
তবে পাশ করলেই এই কোটায় টিকা পসিবল না।
৬ হাজার এর মধ্যে মেধাতালিকায় থাকলে সম্ভাবনা বেশি।
তবে তার বেশি হলেও হয় কিছু কিছু মেডিকেল এ।

মনে করেন আপনি “ক” মেডিকেল থেকে কোটার ফরম তুলছেন।সেখানে সিট আছে পাচ টা। কিন্তু ফরম তুলছে ৫০ টা। তার মধ্যে যদি আপনি স্কোর এ ৫/৭ এর মধ্যে থাকেন তাইলে সিউর চান্স হবে।পিছন থেকেও হয়। তবে তা খুবই কম।
তার মধ্যে যদি কেউ স্কোর ভালোথাকে, সত্যি ই দরিদ্র, বাবা নাই, বা বাবার উপার্জন কম,ইত্যাদি হয় তখন তার চান্স পাওয়া সহজ।কারন এটা মূলত দারিদ্র্যদের জন্য ই।যারা দারিদ্র্য কিন্তু অল্প নাম্বারের জন্য সরকারি তে হয় নি।কিন্তু সারাজীবনের ইচ্ছে ডাক্তার হওয়া। এটা তাদের জন্য।
আর একটা বিষয়।
আপনার এলাকার আশে পাশের মেডিকেল এ আপনাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।মানে আপনি কুমিল্লার স্টুডেন্ট, কুমিল্লার মেডিকেল গুলো তে বেশি গুরত্ব দেয়া হবে।সব জায়গায় ই দিতে পারবেন।গত কয়েক বছর এমন অগ্রাধিকার দেয়া হয় দেখছি।এটা অভিজ্ঞতা থেকে বলা।তবে স্কোর ভালো থাকলে কুমিল্লার হয়েও ঢাকা বা অন্য এলাকায় ও সুযোগ পাবেন।
মূল হলো স্কোর।

আপনি যতখুশি তত মেডিকেল থেকে এই ফরম তুলতে পারবেন।এই ফরম ফ্রী দেয়া হয় সব মেডিকেল এ।

খরচ?

সরকারি মেডিকেল কলেজ এর সমান খরচ।
মানে ভর্তির সময় ৩০/৪০ হাজার টাকা লাগবে।
তারপর শুধু খাওয়ার খরচ। কিছু মেডিকেল এ থাকা ফ্রী আবার কিছু মেডিকেল এ থাকার খরচ দিতে হয়।

আর পাঁচ বছরে চারটি প্রফেশনাল পরীক্ষার ফি যত হয় তা দিতে হবে।এগুলো সরকারি মেডিকেল এর সমান ই।
গড়ে ১৪/১৫ হাজার টাকা প্রতি টি পরীক্ষার ফি হতে পারে।
আর বই খাতা তো আর পারসনাল খরচ তো নিজের ই।
বই খাতা এতো বেশি খরচ হয় না।অনেক বলে মেডিকেল এ বই খাতা, কংকাল ইত্যাদির জন্য নাকি অনেক খরচ হয়। তাই বললাম। এগুলো মানুষ যতটা বলে ততটা নয়।

ভর্তির পর কোটা আর সাধারণ স্টুডেন্টদের মধ্যে কোন পার্থক্য করা হয় না।সব সুযোগ সুবিধা সমান ই পাবে।বরং কোটার তারা হয় ঐ মেডিকেল এর টপ স্টুডেন্ট।

এগুলো হলো অফিসিয়াল কথা।

এবার আসি ভিন্ন কিছু কথা। এগুলো একান্ত নিজের অভিজ্ঞতার কথা। অনেক বছর ধরে দেখছি।
বেশির ভাগ মেডিকেল ই লিগাল ভাবে এই কোটায় ভর্তি করায়।

অনেকে বলে এই সিটে টিকতে টাকা দিতে হয়।ভুল কথা।কেউ এমন লোভ দেখালে বুঝতে হবে তা ভুয়া।এমন ভুল করবেন না আশা করি।

উপযুক্ত হলে একটা না একটা মেডিকেল এ হয়ে ই যাবে।অবশ্যই ৫/৬ টা মেডিকেল থেকে ফরম তুলবেন।
তাইলে মিস হবে না ইনশাআল্লাহ।
হুম। এটা সত্যি যে এই কোটার জন্য সবাই দরিদ্র সাজে।মানে যদের অঢেল টাকা আছে বেসরকারি তে টাকা দিয়ে পড়ার ক্ষমতা আছে। তারাও ভালো পয়েন্ট থাকলে এটার জন্য এপ্লাই করে।হয়েও যায়।কিন্তু তা সংখ্যায় খুব ই কম।