দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৭, ২০২১

দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তাৎক্ষনিকভাবে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সহ বিস্তারিত জানা যায়নি। বুধবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা ১৭ মিনিটের দিকে এ কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হওয়া এই ভূমিকম্পে দুলেছে রাজশাহী, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, কুড়িগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলা।

মূলত উৎপত্তিস্থল থেকে সিলেট অঞ্চল দিয়ে বাংলাদেশে ভূমিকম্প প্রবেশ করে। বাংলাদেশে ২০২০ সালে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দুটি ভূমিকম্প হয়েছিল, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪ দশমিক ৪ এবং ৩ দশমিক ৭। ওই ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল আগ্নেয়গিরি থেকে গড়ে ৬৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল। ২০২১ সালে মে ও জুনেও দুটি ভূমিকম্প ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে।

রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩-এর বেশি। ১৯৮৮ সালে সিলেটে মাঝারি থেকে বড় আকারের ভূমিকম্প দেখা দিয়েছিল, রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮। ওই ভূমিকম্পে টেকটোনিক প্লেটের গভীরতা ছিল প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। রিখটার স্কেলের হিসাবে চার মাত্রার ভূমিকম্পকে হালকা ধরে নেওয়া হয়। অন্যদিকে ছয় থেকে সাত মাত্রার ভূমিকম্পকে শক্তিশালী হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। এ মাত্রার ভূমিকম্পে মানুষ ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এ পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় ৩৭টির বেশি বড় ধরনের ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে।

রিখটার স্কেলে যেগুলোর মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫-এর বেশি। ওই মাত্রার ভূমিকম্পে আক্রান্ত দেশগুলো হলো- চিলি, আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, জাপান, আফ্রিকা, বাংলাদেশ, কলোম্বিয়া, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশ। বাংলাদেশে ওই ঐতিহাসিক ভূমিকম্পটি ১৭৬২ সালের দিকে চট্টগ্রাম অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করেছিল।

জিওগ্রাফিক্যালি বাংলাদেশের অবস্থান ভূমিকম্প জোনে। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকম্পের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির অনেকটা আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন হতে হবে। এ অবস্থায়, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা, বনায়নের পরিমাণ বৃদ্ধি, পরিকল্পিত শিল্পায়ন, নদীর নাব্য বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নে বায়ুমণ্ডলে নির্গত গ্রিন হাউজ গ্যাস কমিয়ে ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে।