দেশে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত: ৭:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৮, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়িতে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জান, মালের নিরাপত্তার বিধান,সাম্প্রতিক সময়ে
কুমিল্লা,রংপুর,চাঁদপুর,বাঁশখালী,নোয়াখালী,চৌমুহনী,বান্দরবান,চট্টগ্রাম,ফেনীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্গা প্রতিমা,দুর্গা মন্ডপ,মন্দির,হিন্দুদের
ঘর-বাড়ি,ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, লুট,অগ্নিসংযোগ, গণধর্ষণ ও হিন্দুদের হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার(১৮অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা শহরে শাপলা চত্বরে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।এতে অংশ নেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ,বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ,সনাতন সমাজ কল্যাণ পরিষদ,সনাতন ছাত্র-যুব পরিষদ,শ্রী শ্রী লক্ষী নারায়ন মন্দির,ইসকন খাগড়াছড়ি,বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি,জাগো হিন্দু পরিষদ,বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট,সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ,জেলা সনাতনী পরিবার কল্যাণ ট্রাস্ট ও শত শত নারী-পুরুষ।

মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন,সাম্প্রতিক সময়ের একটি বিশেষ মহল এই দেশে অরাজকতা পরিস্থিতি সৃষ্টিতে আমাদের সংখ্যালঘুদের জাতিস্বত্বাসমূহকে গভীরভাবে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।এতে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে যে, এ সমস্ত অরাজকতা ও দুঃখজনক পরিস্থিতি তৈরীতে ১৯৭১সালের মতই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিশেষ কায়দায় লক্ষবস্তুতে পরিনত করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
তারা আরো বলেন,আমরা এই রকম দেশে শান্তিতে থাকতে চাই,বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি,এই দেশের সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীদের নিরাপত্তা দেওয়া একটি আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য।আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমরা সেই রাষ্ট্রের শান্তিপ্রিয় নাগরিক।
আমাদের জান, মালের সুরক্ষা দেয়া এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন শেষে জেলাপ্রশাসক বরাবর ৭(সাত)দফা দাবিনামা হস্তান্তর করেন।

৭দফা দাবিসমূহ হচ্ছে:
১.কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফ অবমাননার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক অপরাধী সে যেই হোক তার বা তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২.সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে পুনর্বাসনসহ ভবিষৎ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৩.সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থ মঠ,মন্দির,মন্ডপ,উপসনালয় রাষ্ট্রের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে।
৪.সাম্প্রতিক সহিংসতায় ধর্মীয় পুরোহিত ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের হত্যার বিচার ও তাদের পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনে সরকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫.এ পর্যন্ত সংঘটিত সকল সম্প্রদায়ের হামলার বিচার ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৬.সনাতনী ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
৭.ভবিষ্যতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে বিজিবি,,পুলিশ,আমর্ড পুলিশ ও আনসারের সমন্বয় পদক্ষেপ নিতে হবে।