নতুন স্বাভা‌বিকতায় ফেরেনি য‌শোর

প্রকাশিত: 1:29 PM, June 11, 2020

সালমান হাসান রাজিব।। 

ঘাঁটি গেড়ে বসা করোনার মধ্যেই নতুন স্বাভাবিকতায় ফিরতে শুরু করেছে জনজীবন। তবে এর জন্য বদলাতে হচ্ছে কোডিভ-১৯ পূর্বের জীবনধারা। কিন্তু ‘নিউ নরমাল’র কোনো নিয়মকানুন মানছেন না যশোরের নাগরিকরা। বাইরে বেরহলে মাস্ক পরা ও নিরাপদ দূরত্ব রেখে চলা। এসব কিছুই হলো করোনার মধ্যেকার নতুন স্বাভাবিকতা। কিন্তু এখানকার বেশির ভাগ মানুষই এগুলো রপ্ত করছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নিউ নরমালের পাঠ শেখাতে আইন প্রয়োগ করছে সিভিল প্রশাসন। মাস্ক না পরে বাইরে বের হলে জরিমানা করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
আইন প্রয়োগ। সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এসব কিছুর পরও যশোরে কমছে না করোনার সংক্রমণ। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি বিবেচনায় রেডজোন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যশোর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করা ‘জোনিং ম্যাপে’ এমনটিই দেখানো হয়েছে। আর সেই অর্থে রেডজোন হিসেবে যশোর পুরোপুরি লকডাউন করার কথা। কিন্তু উচ্চপর্যায়ের কোন নির্দেশনা না আসায় যশোর লকডাউন হয়নি বলছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জনসমাগমে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা চলছে। কিন্তু এটির পরিসর এখনও সীমিত। পাবলিক প্লেসের সবখানে আদালতের তৎপরতা সেভাবে চোখে পড়ছে না। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার অন্যতম শর্ত সুরক্ষাবিধি ঠিকমত পালন। আর সেটি নিয়মমাফিক মানা হচ্ছে কি না সেটির নিয়মিত মনিটরিংয়ের সাথে সাথে আইন প্রয়োগের পরিসরও বাড়ানো দরকার।
যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, করোনা থেকে বাঁচতে সবার মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সুরক্ষিত থাকা যাবে। এজন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষার বিষয়টি ঠিকভাবে নিশ্চিত হচ্ছে কি না সেটি নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখতে হবে। সেইসাথে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইন প্রয়োগের পরিসরও বাড়ানো যেতে পারে।
সবকিছু চালুর পর করোনার ‘হটস্পট’ যশোরে সবখানে মানুষের উপস্থিতি বেড়েছে। শহরে এখন কোডিভ-১৯ শুরুর আগের সেই চিরচেনা ভিড় নজরে পড়ছে। ফিরে এসেছে সেই যানজটও। রাস্তায় গিজগিজ করা ভিড়ের মধ্যে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে মানুষজন চলছে; ফিরছে। শহরে চলাচল করা ইজিবাইকে নিয়ম ভেঙে তিনজনের বেশি যাত্রী উঠছে। বাসেও একই অবস্থা। বিশেষ করে আন্তঃজেলা বাসসার্ভিসে হরহামেশাই নিয়ম লঙ্ঘন করে যাত্রী বহন চলছে। একসিটে একজন যাত্রী। এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। বাসভর্তি করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। থ্রি-হুইলারগুলোতে একই রকম অবস্থা। প্রতিটি আসন পূরণ করেই এগুলোর চলাচল চলছে। এছাড়া দোকানপাট বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার যে নির্দেশনা সেটিও উপেক্ষিত হচ্ছে। অনেক রাত অবধি দোকানপাট চালু থাকছে।
গতকাল বুধবার শহরের তিনটি স্পটে চরম ভিড় সেইসাথে যানজট দেখা যায়। মানুষের ভিড় ও পরিবহনের চাপ এদিন এতটাই ছিল যে পা ফেলে চলার মতন অবস্থায় ছিল না। গাড়িখানা রোড থেকে চৌরাস্তা হয়ে আরএন রোড, রেলরোড, পাইপপট্টি ও সিভিল কোর্ট মোড় এলাকায় বেশুমার ভিড় ও যানজট লেগে ছিল। ভিড় ঠেলে গন্তব্যে পৌঁছতে মানুষজনের নাজেহাল হতে হয়। পাঁচ মিনিটের পথ পাড়ি দিতে তিন চার গুণ সময় লেগে যায়।
নতুন স্বাভাবিকতায় ফেরা নিয়ে আলাপচারিতায় জেলার প্রশাসনিক প্রধান ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আরিফ জানান, মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেইসাথে স্বাস্থ্যজ্ঞান ও জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য প্রচারণাও অব্যাহত আছে। দোকানপাট নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধের জন্য নজরদারি বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।