নির্বাচনে ফিরতে চায় বিএনপি, তবে কিছু শর্ত মেনে – মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৩:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০২২

ফের আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়, তবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। শুধু তাই নয়, একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকেও বদলাতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুলেছিল আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৭৩ দিন তারা হরতালও করেছিল। গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যাও করেছিল। এতে লাভও হয়েছিল। কখনো আওয়ামী লীগ ভোটে জয়ী হয়, আবার কখনো বিএনপি জয়ী হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে আটক রেখেছে। একইভাবে তারেক জিয়াকে বিদেশে নির্বাসন দিয়েছে সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারকে ডাকাতের সরকার উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৭২ সালে তখনো একই কাজ করেছে আওয়ামী লীগ।

মওলানা ভাসানীর উদ্ধৃতি দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ হলো নিখিল বাংলাদেশ লুটপাট সমিতি। তা না হলে কেন বঙ্গবন্ধু আক্ষেপ করে বলেছিলেন, বিদেশ থেকে আনলাম সাড়ে সাত কোটি কম্বল, আমার কম্বলটি গেল কোথায়! তাহলে কি বলা যায় না আওয়ামী লীগ একটি ডাকাতের দল, লুটেরার দল।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণের ভোটের ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনমুখী গণতান্ত্রিক দল বিএনপি কখনই দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে রয়েছে থাকবে।

‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি ৩০০ আসনেই জিততে’
এর আগে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি ৩৫০ আসনের মধ্যে ৩০০ আসনেই জয়লাভ করবে। বিগত সময়ে দলীয় এবং বিরোধী মতপোষণকারীদের বিরুদ্ধে যত ধরনের হামলা, নির্যাতন, পুলিশি হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে, সময় মতো এর প্রত্যেকটির জবাব নেওয়া হবে। গুম এবং খুনের সঙ্গে অভিযুক্ত সরকারি এজেন্সির প্রত্যেক কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় হবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হবে।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের দল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল। দেশে এখনো আওয়ামী লীগ নেই, আছে প্রশাসন ও পুলিশ। হাত জোর করে ক্ষমা চেয়ে ২১ বছর পর দলটি ক্ষমতায় এসে দেশের সম্পদ লুটপাট করছে। আওয়ামী লীগ একটি মুনাফিকের দল।
সম্মেলন উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান।