পরিবারের ছেলে-মেয়ে-নাতিসহ এইচএসসি পাস করেছেন ৫০বছর বয়সী সিরাজ

প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২২

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি:

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার মোঃ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রচলিত “নয়ে না হলে নব্বইয়ে হয় না”এই প্রবাদ বাক্যকে পরাজিত করে দেখিয়ে দিলেন ৫০বছর পরে এইচএসসি(আলিম মাদ্রাসা)পরীক্ষায় জিপিএ-২.১৪পেয়ে পাস করেছেন ।
শুধু তিনি নন ২০২১ সালে অনুষ্ঠিত এইচএসি বা সমমান পরীক্ষায় তার সঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছিলেন নিজের ছেলে,মেয়ে ও মেয়ের ঘরের ঘর নাতি।তারাও পাস করেছেন। পাস করেছেন নিজের ছেলে, মেয়ে ও মেয়ের ঘরের নাতি। তারাও পাস হয়েছেন।তিনি
সীমান্তবর্তী তাইন্দং ইউনিয়নের আছালং ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা এবং সাবেক চেয়ারম্যান ও মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফলাফলে জানা যায় মো. সিরাজুল খাগড়াছড়ি ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে প্রাইভেট পরীক্ষার্থী হিসেবে আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন। তিনি জিপিএ-২.১৪ পান।
শুধু তিনিই নন, চলতি বছর তার বড় মেয়ের ঘরের বড় নাতি মো. নাজমুল হাসান জিপিএ-৪.৬৭ এবং ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ জিপিএ-৪.১৭ পেয়ে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। একমাত্র ছেলে হাফেজ নেছারুদ্দীন আহমদ জিপিএ-৪.০০ পেয়ে চট্টগ্রাম বায়তুশ শরফ কামিল মাদরাসা থেকে আলিম পাস করেছেন। এ ছাড়া বড় মেয়ের ঘরের বড় নাতনি জিপিএ-৩.৭৬ পেয়ে তবলছড়ি ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেছেন।

রোববার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বাবা-ছেলে-মেয়ের পাশের খবরে আনন্দের বন্যা বইছে সীমান্তঘেঁষা আছালং ইসলামপুর এলাকার মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বাড়িতে। এ সময় প্রতিবেশী ও স্বজনরা অভিনন্দন জানাতে ছুটে আসেন তাদের বাড়িতে। স্বজনদের কেউ কেউ নিয়ে আসেন ফুল ও মিষ্টি। তার বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশীরা। তাদের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা।

তাঁর ছোট মেয়ে মাহমুদা সিরাজ বাবার এ সাফল্যে উচ্ছসিত। তিনি বলেন, ইচ্ছাশক্তি আর অধ্যবসায় যে সাফল্য এনে দিতে পারে, তার অনন্য দৃষ্টান্ত আমার বাবা। আমাদের ভাই-বোনের ফলাফলের চেয়েও বাবার ফলাফলে আমরা সবাই গর্বিত।আমরা উচ্ছ্বসিত ও আবেগে আপ্লুত।আপনারা সকলেই আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন।

জানা যায়,ছয় মেয়ে ও এক পুত্রসন্তানের জনক মো. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ১৯৮৭ সালে তাইন্দং মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে দাখিল পাস করেন। এরপর বৃদ্ধ মা-বাবার দেখভাল ও পারিবারিক প্রয়োজনে প্রচণ্ড ইচ্ছা থাকলেও লেখাপড়া এগিয়ে নিতে পারেননি। কিন্তু সব সময়ই লেখাপড়ার প্রতি তাঁর গভীর টান ছিলেন।

দীর্ঘ সময় বিরতি থাকার পরে কেন আবার লেখাপড়ায় মনোযোগী হলেন জানতে চাইলে মোঃ সিরাজুল চৌধুরী বলেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষার কোন শেষ নেই।এই প্রবাদ বাক্যকে মনে ধারণ করে আমি শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়। ফলাফল ঘোষণার পর ছেলে-মেয়ে আর নাতির সঙ্গে নিজের কৃতিত্বের খবর পাওয়ার সময়টা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দ মুহূর্ত,এই আনন্দের মুহূর্তকাল টা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবোনা।আমি আনন্দিত,আমার পুরো পরিবারও এই ফলাফলে উচ্ছ্বসিত।