পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস,হেডম্যান-কার্বারীদের ইতিহাস;মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু

প্রকাশিত: ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-২য় পর্যায় প্রকল্পের স্থানীয় সরকার বিভাগে,ইউএনডিপির অর্থায়নে এবং মং সার্কেল ও তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে খাগড়াছড়িতে হেডম্যান ও কার্বারীদের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ(১১ডিসেম্বর) সকাল এগারোটায় জিরোমাইলস্থ মং সার্কেল(মং সংলগ্ন মাঠে(মং রাজবাড়ী) প্রাঙ্গণে বার্ষিক মতবিনিময় শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এ সম্মেলনে মং সার্কেল বা মং রাজ সাচিংপ্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু।

এদিন শীর্ষক সম্মেলনে গোলাবাড়ী মৌজার হেডম্যান উক্যসাইন মারমা’র সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন,বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের যে সমস্যা,সাম্প্রদায়িক যুদ্ধ,যে সকল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিনষ্ট হয়েছিল,সেটা হতোনা।তাঁর সুযোগ্য কন্যা দীর্ঘ ২১বছর পরে পার্বত্যঅঞ্চলের মানুষের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা রেখেছেন।তারই ফলস্বরুপ ১৯৯৭ সালে ২রা ডিসেম্বর ডিসেম্বর শান্তি চুক্তির মাধ্যমে শান্তির স্বীকৃতি পেয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম।পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা রাজনৈতিক সমস্যা,আমরা রাজনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি এবং সেগুলো এখন বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার জননেত্রী শেখ হাসিনা এ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অনেক ভালোবাসেন এ অঞ্চলের সকল মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবংতিনি খুবই আন্তরিক।

তিনি বলেন,আজকের পার্বত্য স্থানীয় পরিষদ ১৯৯৭ সালের আগে থেকেই ছিল।পার্বত্য চট্টগ্রামকে শক্তিশালী করার জন্য স্থানীয় সরকার গঠন করা হয়েছিল।শান্তিচুক্তিতে লেখা ছিল হেডম্যান,কার্বারী এবং স্থানীয় সরকারদের সাথে নিয়ে কাজ করার কথা।
তিনি আরো বলেন,পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস,হেডম্যান -কার্বারীদের ইতিহাস।হেডম্যান -কার্বারীদের বাদ দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস লেখা যায় না।আজ হেডম্যান -কার্বারীরা এ অঞ্চলে সবদিক থেকে বঞ্চিত।অতীতে অনেকেই এই পার্বত্য জেলাপরিষদগুলোর আসনে বসেছিলেন,কিন্তু তখন কেউ তাদেরকে মূল্যায়ন করেনি। জেলা পরিষদ যদি তাদেরকে(হেডম্যান -কার্বারীদের)না চিনে,তাহলে প্রশাসন কিভাবে চিনবে?পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রনালয় যদি তাদেরকে মূল্যায়ন না করে,অন্যরা আপনাদেরকে মূল্যায়ন করবে কে!আমাদের লোকজনেরা যদি আমাদেরকে মূল্যায়ন না করে,অন্যরা মূল্যায়ন কিভাবে করবে!যেটা আমাদের প্রয়োজন,সেটাইতো আমরা করছিনা।কাজেই আমাদেরকে আগে সংশোধন হতে হবো।
তিনি সবসময় হেডম্যান-কার্বারীদের প্রতি আন্তরিক আছেন এবং সবসময় তাদের সাথে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের সমাজ ব্যবস্থায় হেডম্যান (মৌজা প্রধান) ও কার্বারীদের (পাড়া প্রধান) মর্যাদা অত্যন্ত সুপ্রাচীন। প্রাচীন এই সামাজিক নেতৃত্ব বংশ পরম্পরায় সরকারি ভূমি ব্যস্থাপনা, সাধারণ প্রশাসনকে সহযোগিতা ছাড়াও সমাজিক বিচার-আচারেও গুরুত্বপূর্ণ। এখন থেকে তিন পার্বত্য জেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে তাঁদের অংশগ্রহণকে অবশ্য অনস্বীকার্য ।উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরবর্তী প্রজন্মদের হেডম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব আলোকপাত করেন।উচ্চ এলাকা এবং মৌজার প্রধানদের শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে জানান। পরবর্তী প্রজন্মের এলাকা এবং মৌজার প্রতিনিধিদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য অনুরোধ জানান।সমাজ এবং দেশকে ভালো কিছু উপহার দিতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।
এসময় অন্যান্য বক্তারা হেডম্যান -কার্বারীদের ভাতা-সম্মানী বৃদ্ধিসহ নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেন এবং দাবি পেশ করেন।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,এসআইডি-সিএইচটি,ইউএনডিপি’র ডিস্ট্রিক ফ্যাসিলিটেটর সুভাষ দত্ত চাকমা,ইউএনডিপির লাইভলি হুড অফিসার, জেলা পরিষদের সদস্য হিরন জয় ত্রিপুরা,তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমা,খাগড়াছড়ি হেডম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি চাইথোয়াই মারমা,সাধারণ সম্পাদক স্বদেশ প্রীতি চাকমা,কার্বারী এসোশিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হেমরঞ্জন চাকমা,সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী,তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার রিপোর্টিং ও মনিটরিং অফিসার মিহির কান্তি ত্রিপুরা প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা চিংলামং চৌধুরী,বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ অন্যান্যরা।