পাহাড়ের কোন অঞ্চলের শিশুরা শিক্ষাক্ষেত্রে বঞ্চিত থাকবেনা;জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস

প্রকাশিত: ১১:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২১

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়িঃ

খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় শিবমন্দির পাড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির আয়োজনে, বিদ্যালয় র্নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার(১৩অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় ৫নং ভাইবোনছড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড শিবমন্দির পাড়ায় নির্মাণের লক্ষ্যে বলং হামারি(অরণ্যের আশির্বাদ) নামে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস।এতে সভাপতিত্ব করেন ৫নং ভাইবোনছড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও বলং হামারি নিম্ন মাধ্যমিক পরিচালনা কমিটির সভাপতি পরিমল ত্রিপুরা।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় প্রধান অতিথি বক্তব্যে জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন,পাহাড়ে অনেক সমস্যা রয়েছে,এরমধ্যে একটাই সমস্যা হচ্ছে, আমাদের বাচ্চারা লেখাপড়া সুযোগ পাচ্ছেনা।প্রাইমারি স্কুল শেষ করার পরেই তারা ৫ কিলোমিটার,৭ কিলোমিটার ও ১০ কিলোমিটারের ভিতরে কোন হাই স্কুল না থাকাতেই তারা মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগটি পাচ্ছেনা।কাজেই আমরা আশা করতে পারিনা,আমরা ভালো মানুষ হবো,আমরা সমাজের উন্নতি করবো, এলাকায় উন্নয়ন করবো এবং নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে।কাজেই আমাদেরকে পাহাড়ের কোণায় কোণায়, যতই প্রত্যন্ত এলাকায় হোক,সব জায়গায় স্কুল তৈরি করতে হবে।প্রাইমারী স্কুল তো আছেই আগে থেকে,কাজেই আমাদেরকে মাধ্যমিক স্কুল মাধ্যমিক স্কুল নির্মাণ করতে হবে।অন্ততপক্ষে আমরা যদি মাধ্যমিক পর্যন্ত শিখতে পারি এবং পড়াতে পারি,এসএসসি পর্যন্ত পড়াতে পারি,এটা করতে করতে আমরা একসময় কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও করতে পারি।

তিনি আরো বলেন,
আমি যদি শিক্ষিত হতে পারি,আমি আমার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবো।আমি আমার বাবা-মায়ের জন্য আরো অনেক ভালো কিছু করতে পারবো।কারণ আমাদের তো জুম চাষের জায়গায় ও চাষের উপযুক্ততা কমে যাচ্ছে।কাজেই আমাদেরকে পড়ালেখা করতে হবে।মানুষ হতে হবে,লেখাপড়া করে আমি আমার এবং অভিভাবকের ব্যাটার ফিউচার(উন্নত ভবিষ্যৎ) নিশ্চিত করবো।পরিশেষে আমাদের যে নতুন প্রজম্মরা আসছে,পরের যে জেনারেশন আসছে তারাও যেন ব্যাটার ফিউচার টা পায়।এটার জন্য শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।আমরা যে বলং হামারি স্কুলের ভিত্তি প্রস্তর দিলাম,হ্যাঁ এখানে জেলাপ্রশাসন বড় কন্ট্রিবিউশন রাখছে।কিন্তু আমরা আশা করছি কমিউনিটির সকল স্তরেরসকল ব্যক্তি,তথা সবাই মিলে এখানে কন্ট্রিবিউট করবে এবং আস্তে আস্তে এই বিদ্যালয়টি দাঁড়িয়ে যাবে।এই প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়ের অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরিতে উদ্বুদ্ধক করবে।এটা দেখাদেখি ফলে,আরো অনেকে স্ব-উদ্যোগে স্কুল তৈরি করবে।
আমরা সেইদিনের প্রতীক্ষায় আছি। পাহাড়ে কোন অঞ্চলের,কোন স্থানের বাচ্চারা লেখাপড়া সুযোগে বঞ্চিত থাকবেনা।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজা মতিন,সোনালী ব্যাংক খাগড়াছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক সমর কান্তি ত্রিপুরা,জেলা কার্বারী এসোসিয়েশনের অর্থ-সম্পাদক পূর্ণভূষণ ত্রিপুরা,স্কুল নির্মাণের ভূমিদাতা ও এলাকার কার্বারী বলং রায় ত্রিপুরা, সুনেন্দু ত্রিপুরা প্রমুখ।